leadT1ad

মনোয়ার বাবু হত্যা মামলায় হুইপ দুলুসহ জেএমবির সব আসামি খালাস

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ৫৬
রাজশাহী জেলা আদালত। সংগৃহীত ছবি

রাজশাহীর বাগমারার আলোচিত মনোয়ার হোসেন বাবু হত্যা মামলার সব আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামসুল আল্-আমীন রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মামলার সব আসামিকেই খালাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আদালতের পেশকার মো. সাহাবুদ্দিন।

এই মামলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও আসামি ছিলেন। এ ছাড়াও আসামি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত এমপি নাদিম মোস্তফাসহ দলটির আরও কয়েকজন নেতা।

Ad 300x250

অন্য আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড বাগমারার মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে কিলার মোস্তাক, ক্যাডার মাহাতাব খামারু ও আবদুল মতিন ওরফে বোমারু মতিন।

আদালতের পেশকার মো. সাহাবুদ্দিন জানান, মামলায় মোট ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বিচার চলাকালে মারা যান। বাকি ৪৪ জনের মধ্যে ১২ জন দীর্ঘ দিন ধরেই পলাতক ছিলেন। অন্য ৩২ জন আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতেন। রায় ঘোষণার দিন আদালতে ৩০ জন হাজির ছিলেন। শুধু হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও শাহাদ আলী নামের আরেকজন অনুপস্থিত ছিলেন। রায়ে সবাইকেই খালাস দিয়েছেন বিচারক।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল জেলায় ‘সর্বহারা নিধনের’ নামে ৩০ বছরের যুবক মনোয়ার হোসেন বাবুকে বাগমারার একটি মাঠে তাড়া করে ধরে পলাশি গ্রামে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে তারা ‘বাংলা ভাই জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দিয়ে হামিরকুৎসা গ্রামে জেএমবির ক্যাম্পের দিকে চলে যান। এ ঘটনায় নিহত মনোয়ার হোসেনের বাবা মহসিন আলী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।

রাজশাহী জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রইসুল ইসলাম জানান, পুলিশ প্রথমে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় বিএনপির প্রভাবশালী নেতাসহ অন্যদের অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

রইসুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপি নেতাদের জড়ানো হয়েছিল। বিচার চলাকালে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের কেউই আসামিদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনতে পারেননি। তাই আদালতের রায় সঠিক আছে।’

leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad