এস এম ইমরানউজ্জামান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে শুধু আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কাঠামোও পরিবর্তনের মুখোমুখি। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত এখন শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়; এটি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক শক্তির নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এই সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নটি উঠে এসেছে, তা হলো, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক আধিপত্য কি এখনও অটুট আছে, নাকি তা ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে?
যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করেছিল দ্রুত সামরিক আঘাতের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করা সম্ভব হবে। তাদের ধারণা ছিল সামরিক চাপ সৃষ্টি করে হয় ইরানে শাসন পরিবর্তন ঘটানো যাবে, অথবা অন্তত দ্রুত একটি যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু ইরান এই দুই পথই প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের কৌশল এখন যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সমাধান নিশ্চিত করা, যেখানে তাদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকবে। এই কারণে ইরান সংঘাতকে এমনভাবে পরিচালনা করছে যাতে তা দ্রুত শেষ না হয়ে বরং ধীরে ধীরে প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে ফেলে।
যেকোনো সামরিক সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আছে– ‘সেন্টার অব গ্র্যাভিটি’ বা যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু। এটি সেই জায়গা বা শক্তি যেখানে আঘাত করলে প্রতিপক্ষের শক্তি দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করেছিল ইরানের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থাই এই কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু বাস্তবে ইরান বহু বছর ধরে একটি বিকেন্দ্রীকৃত সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছে। ফলে নেতৃত্বের ওপর আঘাত করলেই পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে পড়বে – ইরানের জন্য এমন ধারণা বাস্তবসম্মত ছিল না।
এই ভুল বিশ্লেষণ তাদের যুদ্ধের কৌশলকে বহুলাংশেই দুর্বল করে দিয়েছে। মূলত এই যুদ্ধের সেন্টার অব গ্র্যাভিটি ছিল দুটি—একটি আন্তর্জাতিক এবং অন্যটি আঞ্চলিক, যা ইসরায়েল-আমেরিকান সামরিক বাহিনী সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক কেন্দ্রবিন্দু হলো হরমুজ প্রণালি অন্য দিকে আঞ্চলিক কেন্দ্রবিন্দু হলো জিসিসি (GCC) দেশের ভূখণ্ডে আমেরিকার ঘাঁটি।
এই সংঘাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: উপকূলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, সাবমেরিন ও নৌমাইন, ভূগর্ভস্থ টানেল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ, দ্রুতগামী নৌবহর।
এই কৌশলকে সামরিক ভাষায় বলা হয়—Anti-Access/Area Denial (A2/AD)—যার উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ বা নিরাপদে অবস্থান করা থেকে বিরত রাখা। ফলে হরমুজ প্রণালি এখন শুধু একটি বাণিজ্যিক পথ নয়; এটি হয়ে উঠেছে এই সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী এখানে প্রায় ৭,০০০ তেল ট্যাঙ্কার আটকে আছে, বের হতে পারছে না। হরমুজ প্রণালিতে এই উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, এবং বিশ্লেষকদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা দিতে পারে।
জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে খাদ্য ও শিল্প উৎপাদনে, পরিবহন ব্যয়ে এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিতে। অর্থাৎ একটি আঞ্চলিক সংঘাত ধীরে ধীরে বিশ্ব অর্থনীতির সংকটে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, বিশেষত উপসাগরীয় দেশগুলোতে। এসব ঘাঁটিতে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন: THAAD, Patriot Missile System এবং SM-3 Interceptor স্থাপন করা আছে।
এতদিন ধরে এই সামরিক ঘাঁটিগুলোই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অসীম ক্ষমতাধর করে রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে দেখা গেছে, এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পুরোপুরি অজেয় নয়। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন ঐতিহ্যগত প্রতিরক্ষা কাঠামোকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ইরান তাদের রাডারগুলো ধ্বংস করার ফলে এই ইন্টারসেপ্টরগুলির কার্যকারিতা বর্তমানে অনেকাংশেই কমে গেছে। আমেরিকার উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত, ইরানের স্থায়ী, আন্ডারগ্রাউন্ড উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে তুলনীয় নয়। ‘প্রচলিত যুদ্ধ’ এখন ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে’ (war of attrition) পরিণত হয়েছে। সামরিক ভারসাম্যের এই পরিবর্তন তাই স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকাকে মধ্যপ্রাচ্যে যথেষ্টই দুর্বল করে দিয়েছে।
ইরানের সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—যুদ্ধকে দীর্ঘমেয়াদি অপ্রচলিত সংঘাতে পরিণত করা। এই ধরনের যুদ্ধকে প্রায়ই “asymmetric warfare” বলা হয়, যেখানে অপেক্ষাকৃত দুর্বল পক্ষ সরাসরি শক্তির লড়াইয়ে না গিয়ে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক চাপ ব্যবহার করে।
এই পদ্ধতিতে ছোট ছোট আঘাতের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে দুর্বল করা হয়। ইরান বহু বছর ধরে এমন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন।
এই সংঘাতে শুধু আঞ্চলিক শক্তিই নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও চীন উভয়ই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে।
ফলে এই সংঘাত ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অংশে পরিণত হচ্ছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করছে—মধ্যপ্রাচ্যে কি একটি নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে?
গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের প্রধান সামরিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দেখাচ্ছে যে বাস্তবতা এখন আরও জটিল। আঞ্চলিক শক্তি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক কৌশল—সব মিলিয়ে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ সংকট শুধু একটি আঞ্চলিক সামরিক সংঘাত নয়। এটি এমন একটি ঘটনা যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শক্তির কাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে নতুনভাবে রূপ দিতে পারে।
এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যার প্রভাব বহু বছর ধরে বিশ্বকে অনুভব করতে হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে শুধু আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কাঠামোও পরিবর্তনের মুখোমুখি। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত এখন শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়; এটি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক শক্তির নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এই সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নটি উঠে এসেছে, তা হলো, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক আধিপত্য কি এখনও অটুট আছে, নাকি তা ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে?
যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করেছিল দ্রুত সামরিক আঘাতের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করা সম্ভব হবে। তাদের ধারণা ছিল সামরিক চাপ সৃষ্টি করে হয় ইরানে শাসন পরিবর্তন ঘটানো যাবে, অথবা অন্তত দ্রুত একটি যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু ইরান এই দুই পথই প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের কৌশল এখন যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সমাধান নিশ্চিত করা, যেখানে তাদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকবে। এই কারণে ইরান সংঘাতকে এমনভাবে পরিচালনা করছে যাতে তা দ্রুত শেষ না হয়ে বরং ধীরে ধীরে প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে ফেলে।
যেকোনো সামরিক সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আছে– ‘সেন্টার অব গ্র্যাভিটি’ বা যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু। এটি সেই জায়গা বা শক্তি যেখানে আঘাত করলে প্রতিপক্ষের শক্তি দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করেছিল ইরানের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থাই এই কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু বাস্তবে ইরান বহু বছর ধরে একটি বিকেন্দ্রীকৃত সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছে। ফলে নেতৃত্বের ওপর আঘাত করলেই পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে পড়বে – ইরানের জন্য এমন ধারণা বাস্তবসম্মত ছিল না।
এই ভুল বিশ্লেষণ তাদের যুদ্ধের কৌশলকে বহুলাংশেই দুর্বল করে দিয়েছে। মূলত এই যুদ্ধের সেন্টার অব গ্র্যাভিটি ছিল দুটি—একটি আন্তর্জাতিক এবং অন্যটি আঞ্চলিক, যা ইসরায়েল-আমেরিকান সামরিক বাহিনী সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক কেন্দ্রবিন্দু হলো হরমুজ প্রণালি অন্য দিকে আঞ্চলিক কেন্দ্রবিন্দু হলো জিসিসি (GCC) দেশের ভূখণ্ডে আমেরিকার ঘাঁটি।
এই সংঘাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: উপকূলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, সাবমেরিন ও নৌমাইন, ভূগর্ভস্থ টানেল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ, দ্রুতগামী নৌবহর।
এই কৌশলকে সামরিক ভাষায় বলা হয়—Anti-Access/Area Denial (A2/AD)—যার উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ বা নিরাপদে অবস্থান করা থেকে বিরত রাখা। ফলে হরমুজ প্রণালি এখন শুধু একটি বাণিজ্যিক পথ নয়; এটি হয়ে উঠেছে এই সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী এখানে প্রায় ৭,০০০ তেল ট্যাঙ্কার আটকে আছে, বের হতে পারছে না। হরমুজ প্রণালিতে এই উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, এবং বিশ্লেষকদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা দিতে পারে।
জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে খাদ্য ও শিল্প উৎপাদনে, পরিবহন ব্যয়ে এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিতে। অর্থাৎ একটি আঞ্চলিক সংঘাত ধীরে ধীরে বিশ্ব অর্থনীতির সংকটে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, বিশেষত উপসাগরীয় দেশগুলোতে। এসব ঘাঁটিতে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন: THAAD, Patriot Missile System এবং SM-3 Interceptor স্থাপন করা আছে।
এতদিন ধরে এই সামরিক ঘাঁটিগুলোই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অসীম ক্ষমতাধর করে রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে দেখা গেছে, এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পুরোপুরি অজেয় নয়। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন ঐতিহ্যগত প্রতিরক্ষা কাঠামোকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ইরান তাদের রাডারগুলো ধ্বংস করার ফলে এই ইন্টারসেপ্টরগুলির কার্যকারিতা বর্তমানে অনেকাংশেই কমে গেছে। আমেরিকার উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত, ইরানের স্থায়ী, আন্ডারগ্রাউন্ড উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে তুলনীয় নয়। ‘প্রচলিত যুদ্ধ’ এখন ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে’ (war of attrition) পরিণত হয়েছে। সামরিক ভারসাম্যের এই পরিবর্তন তাই স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকাকে মধ্যপ্রাচ্যে যথেষ্টই দুর্বল করে দিয়েছে।
ইরানের সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—যুদ্ধকে দীর্ঘমেয়াদি অপ্রচলিত সংঘাতে পরিণত করা। এই ধরনের যুদ্ধকে প্রায়ই “asymmetric warfare” বলা হয়, যেখানে অপেক্ষাকৃত দুর্বল পক্ষ সরাসরি শক্তির লড়াইয়ে না গিয়ে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক চাপ ব্যবহার করে।
এই পদ্ধতিতে ছোট ছোট আঘাতের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে দুর্বল করা হয়। ইরান বহু বছর ধরে এমন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন।
এই সংঘাতে শুধু আঞ্চলিক শক্তিই নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও চীন উভয়ই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে।
ফলে এই সংঘাত ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অংশে পরিণত হচ্ছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করছে—মধ্যপ্রাচ্যে কি একটি নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে?
গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের প্রধান সামরিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দেখাচ্ছে যে বাস্তবতা এখন আরও জটিল। আঞ্চলিক শক্তি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক কৌশল—সব মিলিয়ে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ সংকট শুধু একটি আঞ্চলিক সামরিক সংঘাত নয়। এটি এমন একটি ঘটনা যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শক্তির কাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে নতুনভাবে রূপ দিতে পারে।
এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যার প্রভাব বহু বছর ধরে বিশ্বকে অনুভব করতে হতে পারে।

গণতন্ত্রকে বিবেচনা করা হয় জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিফলন হিসেবে। জনগণের ম্যান্ডেট বা জনসমর্থনই হলো গণতান্ত্রিক ক্ষমতার মূল উৎস। কিন্তু একুশ শতকের বিশ্ব রাজনীতিতে এই দৃশ্যমান ক্ষমতার সমান্তরালে এক অদৃশ্য শক্তির সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যাকে বলা হয় ‘ডিপ স্টেট’ বা ‘রাষ্ট্রের অভ্যন্ত
১৭ ঘণ্টা আগে
১৯৯২ সালে জাইদি শিয়া মতাদর্শের পুনর্জাগরণ এবং সৌদি আরবের ওয়াহাবি প্রভাব মোকাবিলার জন্য হুসেইন বদরেদ্দীন আল-হুথি 'বিলিভিং ইয়ুথ' নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
১ দিন আগে
ট্রান্সআটলান্টিক বা আটলান্টিক পাড়ের দাস ব্যবসাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এবং ক্ষতিপূরণের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
১ দিন আগে
মাইক্রোফোন হাতে তাঁরা একসময় মঞ্চ কাঁপিয়েছেন। শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে তুলে ধরেছেন সমাজের নানা অসঙ্গতি। তাঁদের গানের তালে মেতেছে তরুণ প্রজন্ম। সেই র্যাপাররা সামলাচ্ছেন রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব।
২ দিন আগে