মারুফ ইসলাম

বাংলাদেশে ‘তথ্য অধিকার আইন’ কার্যকর হওয়ার পনেরো বছর পেরিয়ে গেছে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে সংবিধান স্বীকৃতি দিয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই অধিকার কি বাস্তবে নাগরিকের জীবনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনতে পেরেছে? সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সূচকগুলো বলছে, উত্তরটি এখনও হতাশাব্যঞ্জক।
আন্তর্জাতিক সংস্থা সেন্টার ফর ল অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (সিএলডি) এবং এক্সেস ইনফো ইউরোপের গ্লোবাল রাইট টু ইনফরমেশন রেটিং ২০২৪ অনুযায়ী, শক্তিমত্তার বিচারে বাংলাদেশ তথ্য অধিকার আইনের অবস্থান ২৭তম। একই সূচকে আফগানিস্তান আশ্চর্যজনকভাবে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে।
এই সূচকটি মূলত পাঁচটি মানদণ্ডে আইনকে মূল্যায়ন করে। যেমন— আইনগত পরিধি, তথ্যের বৈচিত্র ও সীমাবদ্ধতা, আবেদন ও আপিল ব্যবস্থার কার্যকারিতা, তথ্য প্রচারে রাষ্ট্রের সক্রিয়তা এবং জবাবদিহি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।
এগুলোর সমষ্টিতে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৯ পয়েন্ট। ২০১৮ সালে এই অবস্থান ছিল ২৯তম, যা থেকে কিছুটা উন্নতি হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি বলা যায় না।
গত জুলাইয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক গবেষণায় জানিয়েছে, দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানেন না। বাকি যে ২৫ শতাংশ জানেন, তারাও আবেদন করে যথাসময়ে তথ্য পান না।
বিষয়টি স্বীকার করে তথ্য কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা লিটন কুমার প্রামাণিক স্ট্রিমকে বলেন, তথ্য কমিশনের ৭৪টি পদের বিপরীতে বর্তমানে একজন পরিচালক, একজন একান্ত সচিব, ২৭ জন স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ২০ জন আউটসোর্সিংসহ মোট ৪৯ জনবল আছে। কমিশন গঠন না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেবল প্রতিদিন অফিসে উপস্থিত হয়ে কাজ করছেন। শীর্ষ পদ শূন্য থাকায় কোনো অভিযোগের শুনানি হচ্ছে না। প্রতিদিন নতুন অভিযোগ জমা হচ্ছে। এ ছাড়াও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কাজও বন্ধ। এর সমাধান কবে তা আমরা জানি না।’
গত বছরে জুলাই-গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার পালাবদল হলে তথ্য কমিশনের শীর্ষ পদগুলো শূন্য হয়। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে তথ্য কমিশন যখন লোকবলে পূর্ণ ছিল, তখনও মানুষ সহজে তথ্য পায়নি।
একটি স্বনামধন্য গণমাধ্যসের সাংবাদিক জুয়েল বিশ্বাস বলেন, ‘আমি বেশ কয়েকবার তথ্য চেয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা’, ‘গোপনীয়তা’ বা ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে আমাকে তথ্য দেওয়া হয়নি।’
জুয়েল বিশ্বাসের এই মন্তব্যের সত্যতা মেলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একাধিক প্রতিবেদনে। সংস্থা দুটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে তথ্য প্রবাহ ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হয়, প্রায়শই ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা’ অজুহাত দেখিয়ে।
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সময় আবেদনপত্রের কোনো জবাবই দেওয়া হয় না, কিংবা প্রক্রিয়াটি এমনভাবে বিলম্বিত করা হয় যে তথ্যের কার্যকারিতা হারায়। তথ্য কমিশনে আপিল করলেও প্রায়শই ফলাফল একই থেকে যায়। ট্রান্সপারেন্সি অ্যাডভাইসরি গ্রুপ (টিএজি) ও রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের (আরআইবি) যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ৮২ শতাংশ আবেদনকারীই নির্ধারিত ২০ কর্মদিবসের মধ্যে কোনো উত্তর পাননি।
এ ছাড়া ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন পরিচালিত এক জরিপ থেকে জানা গেছে, ৫৯ শতাংশ আবেদনকারী প্রথম পর্যায়েই কোনো উত্তর পাননি।
এ অবস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে শাসন ব্যবস্থায়। তথ্য না থাকলে জনগণ সরকারের সিদ্ধান্ত ও ব্যয়ের ওপর নজরদারি করতে পারে না, নীতিনির্ধারণে অংশ নিতে পারে না এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ হারায়।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)-এর প্রকাশিত বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক ২০২৫-এ বাংলাদেশ ১৮০ দেশের মধ্যে ১৬৫তম স্থানে রয়েছে। এটি ইঙ্গিত করে যে তথ্যপ্রাপ্তির পরিবেশ কেবল প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দিক থেকেও সংকুচিত।
তথ্যের অবাধ প্রবাহ ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজের অস্তিত্বই দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু যখন তথ্য নাগরিকের নাগালে থাকে না, তখন অভ্যন্তরীণ চাপের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ হয়। বাজেট ব্যয় হয় জবাবদিহি ছাড়া এবং দুর্নীতি পরিণত হয় নীতিতে।
তথ্য অধিকার আইন সেই অচলাবস্থাকে ভাঙার জন্যই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পনেরো বছর পরও যদি নাগরিককে আবেদন, আপিল ও অপেক্ষার ধাপ পেরোতে হয় একটি সাধারণ নথি পাওয়ার জন্য, তবে এটি নিঃসন্দেহে আইনটির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইনের কাঠামো নিঃসন্দেহে শক্তিশালী। কিন্তু এই শক্তি যদি নাগরিকের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন না আনে, তবে তা কেবল আইনগ্রন্থের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

বাংলাদেশে ‘তথ্য অধিকার আইন’ কার্যকর হওয়ার পনেরো বছর পেরিয়ে গেছে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে সংবিধান স্বীকৃতি দিয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই অধিকার কি বাস্তবে নাগরিকের জীবনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনতে পেরেছে? সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সূচকগুলো বলছে, উত্তরটি এখনও হতাশাব্যঞ্জক।
আন্তর্জাতিক সংস্থা সেন্টার ফর ল অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (সিএলডি) এবং এক্সেস ইনফো ইউরোপের গ্লোবাল রাইট টু ইনফরমেশন রেটিং ২০২৪ অনুযায়ী, শক্তিমত্তার বিচারে বাংলাদেশ তথ্য অধিকার আইনের অবস্থান ২৭তম। একই সূচকে আফগানিস্তান আশ্চর্যজনকভাবে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে।
এই সূচকটি মূলত পাঁচটি মানদণ্ডে আইনকে মূল্যায়ন করে। যেমন— আইনগত পরিধি, তথ্যের বৈচিত্র ও সীমাবদ্ধতা, আবেদন ও আপিল ব্যবস্থার কার্যকারিতা, তথ্য প্রচারে রাষ্ট্রের সক্রিয়তা এবং জবাবদিহি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।
এগুলোর সমষ্টিতে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৯ পয়েন্ট। ২০১৮ সালে এই অবস্থান ছিল ২৯তম, যা থেকে কিছুটা উন্নতি হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি বলা যায় না।
গত জুলাইয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক গবেষণায় জানিয়েছে, দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানেন না। বাকি যে ২৫ শতাংশ জানেন, তারাও আবেদন করে যথাসময়ে তথ্য পান না।
বিষয়টি স্বীকার করে তথ্য কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা লিটন কুমার প্রামাণিক স্ট্রিমকে বলেন, তথ্য কমিশনের ৭৪টি পদের বিপরীতে বর্তমানে একজন পরিচালক, একজন একান্ত সচিব, ২৭ জন স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ২০ জন আউটসোর্সিংসহ মোট ৪৯ জনবল আছে। কমিশন গঠন না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেবল প্রতিদিন অফিসে উপস্থিত হয়ে কাজ করছেন। শীর্ষ পদ শূন্য থাকায় কোনো অভিযোগের শুনানি হচ্ছে না। প্রতিদিন নতুন অভিযোগ জমা হচ্ছে। এ ছাড়াও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কাজও বন্ধ। এর সমাধান কবে তা আমরা জানি না।’
গত বছরে জুলাই-গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার পালাবদল হলে তথ্য কমিশনের শীর্ষ পদগুলো শূন্য হয়। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে তথ্য কমিশন যখন লোকবলে পূর্ণ ছিল, তখনও মানুষ সহজে তথ্য পায়নি।
একটি স্বনামধন্য গণমাধ্যসের সাংবাদিক জুয়েল বিশ্বাস বলেন, ‘আমি বেশ কয়েকবার তথ্য চেয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা’, ‘গোপনীয়তা’ বা ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে আমাকে তথ্য দেওয়া হয়নি।’
জুয়েল বিশ্বাসের এই মন্তব্যের সত্যতা মেলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একাধিক প্রতিবেদনে। সংস্থা দুটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে তথ্য প্রবাহ ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হয়, প্রায়শই ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা’ অজুহাত দেখিয়ে।
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সময় আবেদনপত্রের কোনো জবাবই দেওয়া হয় না, কিংবা প্রক্রিয়াটি এমনভাবে বিলম্বিত করা হয় যে তথ্যের কার্যকারিতা হারায়। তথ্য কমিশনে আপিল করলেও প্রায়শই ফলাফল একই থেকে যায়। ট্রান্সপারেন্সি অ্যাডভাইসরি গ্রুপ (টিএজি) ও রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের (আরআইবি) যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ৮২ শতাংশ আবেদনকারীই নির্ধারিত ২০ কর্মদিবসের মধ্যে কোনো উত্তর পাননি।
এ ছাড়া ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন পরিচালিত এক জরিপ থেকে জানা গেছে, ৫৯ শতাংশ আবেদনকারী প্রথম পর্যায়েই কোনো উত্তর পাননি।
এ অবস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে শাসন ব্যবস্থায়। তথ্য না থাকলে জনগণ সরকারের সিদ্ধান্ত ও ব্যয়ের ওপর নজরদারি করতে পারে না, নীতিনির্ধারণে অংশ নিতে পারে না এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ হারায়।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)-এর প্রকাশিত বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক ২০২৫-এ বাংলাদেশ ১৮০ দেশের মধ্যে ১৬৫তম স্থানে রয়েছে। এটি ইঙ্গিত করে যে তথ্যপ্রাপ্তির পরিবেশ কেবল প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দিক থেকেও সংকুচিত।
তথ্যের অবাধ প্রবাহ ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজের অস্তিত্বই দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু যখন তথ্য নাগরিকের নাগালে থাকে না, তখন অভ্যন্তরীণ চাপের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ হয়। বাজেট ব্যয় হয় জবাবদিহি ছাড়া এবং দুর্নীতি পরিণত হয় নীতিতে।
তথ্য অধিকার আইন সেই অচলাবস্থাকে ভাঙার জন্যই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পনেরো বছর পরও যদি নাগরিককে আবেদন, আপিল ও অপেক্ষার ধাপ পেরোতে হয় একটি সাধারণ নথি পাওয়ার জন্য, তবে এটি নিঃসন্দেহে আইনটির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইনের কাঠামো নিঃসন্দেহে শক্তিশালী। কিন্তু এই শক্তি যদি নাগরিকের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন না আনে, তবে তা কেবল আইনগ্রন্থের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

গণতন্ত্রকে বিবেচনা করা হয় জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিফলন হিসেবে। জনগণের ম্যান্ডেট বা জনসমর্থনই হলো গণতান্ত্রিক ক্ষমতার মূল উৎস। কিন্তু একুশ শতকের বিশ্ব রাজনীতিতে এই দৃশ্যমান ক্ষমতার সমান্তরালে এক অদৃশ্য শক্তির সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যাকে বলা হয় ‘ডিপ স্টেট’ বা ‘রাষ্ট্রের অভ্যন্ত
১৮ ঘণ্টা আগে
১৯৯২ সালে জাইদি শিয়া মতাদর্শের পুনর্জাগরণ এবং সৌদি আরবের ওয়াহাবি প্রভাব মোকাবিলার জন্য হুসেইন বদরেদ্দীন আল-হুথি 'বিলিভিং ইয়ুথ' নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
১ দিন আগে
ট্রান্সআটলান্টিক বা আটলান্টিক পাড়ের দাস ব্যবসাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এবং ক্ষতিপূরণের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
১ দিন আগে
মাইক্রোফোন হাতে তাঁরা একসময় মঞ্চ কাঁপিয়েছেন। শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে তুলে ধরেছেন সমাজের নানা অসঙ্গতি। তাঁদের গানের তালে মেতেছে তরুণ প্রজন্ম। সেই র্যাপাররা সামলাচ্ছেন রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব।
২ দিন আগে