আতাউর রহমান রাইহান

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে আবার শুরু হয়েছে সংঘাত। শনিবার ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে বিশ্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র ইসরাইল। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এতে অঞ্চলটিতে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর ও রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল দেশের অর্থনীতি ব্যাপক ও বহুমুখী ক্ষতির মুখে পড়বে। বিশেষ করে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি পুরো অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করবে। আবার প্রবাসীদের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকায় রেমিট্যান্স কমবে। এতে সংকুচিত হবে অর্থনীতি।
এ নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম আতিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছে স্ট্রিম।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবিরের মতে ইরানে মার্কিন হামলায় কূটনীতির চেয়ে অর্থনৈতিক প্রভাব বেশি। তিনি বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। এতে তেলের দাম অনেক বেড়ে যাবে।
সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা তো পুরো জ্বালানি তেলই আমদানি করি। সেক্ষেত্রে আমরা বিপর্যস্ত হয়ে যাব। আমাদের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিতে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়া আমাদের জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে।
প্রবাসীদের নিয়ে নানা আশঙ্কার কথা জানান সাবেক এই কূটনীতিক। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অসংখ্য দেশে আমাদের জনশক্তি আছে। এখন যদি ইরান পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকে, নিরাপত্তার কারণে তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনাও করতে হবে। আর বাংলাদেশিরা যদি আয় করতে না পারে, তারা রেমিট্যান্স পাঠাবে কোথা থেকে? ফলে আমাদের রেমিট্যান্সে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকবে। অন্তত তিনভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, আসলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর ইরান সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আছে সেখানে হামলা চালিয়েছে। এটা কতদিন চলবে, সেটাও কেউ জানে না। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিই এখন হুমকিতে।
অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বে তিন শতাংশ তেল সরবরাহ করে ইরান। এটি বন্ধ হলে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে। আবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে পুরো এনার্জি সাপ্লাই চেইন বন্ধ হয়ে যাবে। এই অবস্থায় বিশ্বের তেল ও এলএনজি সরবরাহ উভয়ই হুমকির মধ্যে আছে। আজই সারাবিশ্বে ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া স্বর্ণের দাম এরইমধ্যে বেড়েছে।’
প্রবাসী শ্রমিকরাও বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন মাহফুজ কবীর। তিনি বলেন, ‘তারা বড় রকমের অস্থিরতার মধ্যে আছে। কখন কোথায় আক্রমণ হবে তা বলা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি সৌদি আরব। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন—এরা সবাই হুমকির মধ্যে আছে।’
বাংলাদেশের ওপর প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে জানিয়ে মাহফুজ কবীর বলেন, কারণ, বাংলাদেশ ফরেন কারেন্সি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল ও এলএনজিও আমদানি করে বাংলাদেশে। এসব বিষয় বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
যুদ্ধ অর্থনীতিতে কী প্রভাব তৈরি করতে পারে সেই বিষয়ে ইউক্রেন-রাশিয়ার প্রসঙ্গ এনে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ২০২২ সালে যখন রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হয়েছিল। এরপর আমাদের রিজার্ভ তলানিতে নামে। রাজনৈতিক পরিবর্তনও হয়। ভেনেজুয়েলার সমস্যা এখনও আছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় দুর্যোগ।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের অনেক সম্পর্ক আছে। বিশেষ করে আমরা ওইসব দেশ থেকে তেল আমদানি করি। অনেক কিছু রপ্তানিও করি। যুদ্ধ বন্ধ না হলে এই পুরো ব্যবস্থায় প্রভাব পড়বে।

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে আবার শুরু হয়েছে সংঘাত। শনিবার ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে বিশ্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র ইসরাইল। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এতে অঞ্চলটিতে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর ও রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল দেশের অর্থনীতি ব্যাপক ও বহুমুখী ক্ষতির মুখে পড়বে। বিশেষ করে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি পুরো অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করবে। আবার প্রবাসীদের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকায় রেমিট্যান্স কমবে। এতে সংকুচিত হবে অর্থনীতি।
এ নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম আতিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছে স্ট্রিম।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবিরের মতে ইরানে মার্কিন হামলায় কূটনীতির চেয়ে অর্থনৈতিক প্রভাব বেশি। তিনি বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। এতে তেলের দাম অনেক বেড়ে যাবে।
সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা তো পুরো জ্বালানি তেলই আমদানি করি। সেক্ষেত্রে আমরা বিপর্যস্ত হয়ে যাব। আমাদের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিতে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়া আমাদের জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে।
প্রবাসীদের নিয়ে নানা আশঙ্কার কথা জানান সাবেক এই কূটনীতিক। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অসংখ্য দেশে আমাদের জনশক্তি আছে। এখন যদি ইরান পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকে, নিরাপত্তার কারণে তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনাও করতে হবে। আর বাংলাদেশিরা যদি আয় করতে না পারে, তারা রেমিট্যান্স পাঠাবে কোথা থেকে? ফলে আমাদের রেমিট্যান্সে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকবে। অন্তত তিনভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, আসলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর ইরান সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আছে সেখানে হামলা চালিয়েছে। এটা কতদিন চলবে, সেটাও কেউ জানে না। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিই এখন হুমকিতে।
অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বে তিন শতাংশ তেল সরবরাহ করে ইরান। এটি বন্ধ হলে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে। আবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে পুরো এনার্জি সাপ্লাই চেইন বন্ধ হয়ে যাবে। এই অবস্থায় বিশ্বের তেল ও এলএনজি সরবরাহ উভয়ই হুমকির মধ্যে আছে। আজই সারাবিশ্বে ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া স্বর্ণের দাম এরইমধ্যে বেড়েছে।’
প্রবাসী শ্রমিকরাও বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন মাহফুজ কবীর। তিনি বলেন, ‘তারা বড় রকমের অস্থিরতার মধ্যে আছে। কখন কোথায় আক্রমণ হবে তা বলা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি সৌদি আরব। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন—এরা সবাই হুমকির মধ্যে আছে।’
বাংলাদেশের ওপর প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে জানিয়ে মাহফুজ কবীর বলেন, কারণ, বাংলাদেশ ফরেন কারেন্সি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল ও এলএনজিও আমদানি করে বাংলাদেশে। এসব বিষয় বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
যুদ্ধ অর্থনীতিতে কী প্রভাব তৈরি করতে পারে সেই বিষয়ে ইউক্রেন-রাশিয়ার প্রসঙ্গ এনে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ২০২২ সালে যখন রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হয়েছিল। এরপর আমাদের রিজার্ভ তলানিতে নামে। রাজনৈতিক পরিবর্তনও হয়। ভেনেজুয়েলার সমস্যা এখনও আছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় দুর্যোগ।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের অনেক সম্পর্ক আছে। বিশেষ করে আমরা ওইসব দেশ থেকে তেল আমদানি করি। অনেক কিছু রপ্তানিও করি। যুদ্ধ বন্ধ না হলে এই পুরো ব্যবস্থায় প্রভাব পড়বে।

দেশের বাজারে টানা সাত দফা দাম কমার পর শনিবার এক দিনেই দুই দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো দাম বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
৮ ঘণ্টা আগে
গত এক দশকে (২০১৩-২০২২) আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন (৬ হাজার ৮৩০ কোটি) ডলার পাচার হয়েছে। দেশীয় মুদ্রায় বর্তমান বাজারদরে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) যার পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।
১৩ ঘণ্টা আগে
চলতি অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন জমার সময় শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ মার্চ। এখন পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করা ৫০ লাখ করদাতার মধ্যে ৪১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি রিটার্ন জমা পড়েছে। এ ছাড়া রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়াতে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায়ও ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
২০ ঘণ্টা আগে
সরকার জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঠিক আছে বললেও পাম্প মালিকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, চাহিদা বাড়লেও ২০২৫ সালে যেই হারে পাম্পগুলো তেল পেত তাই সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ এক বছরে তেলের চাহিদা বেড়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ক্রেতাদের মধ্যে বেশি তেল সংগ্রহের প্রবণতা তৈরি
২১ ঘণ্টা আগে