স্ট্রিম ডেস্ক

তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন যৌথ বিমান হামলায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ইরান। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের হাল ধরতে এবং ইসলামি বিপ্লবের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মুজতবা হোসেইনি খামেনি।
১৯৬৯ সালে ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন মুজতবা খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তাঁর পিতা আলী খামেনি যখন ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন, তখন মুজতবা তেহরানে স্থানান্তরিত হন। তিনি তেহরানের অভিজাত ‘আলাভি হাই স্কুল’-এ পড়াশোনা করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি মূলত ইরানে শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ও অনুগত ব্যক্তিত্ব তৈরির জন্য পরিচিত।
পরবর্তীতে তিনি তেহরান ও কুমে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। কট্টরপন্থী ও প্রভাবশালী আলেম আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ-তাকি মেসবাহ ইয়াজদির অধীনে তাঁর শিক্ষা গ্রহণ মুজতবার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চিন্তাধারাকে আরও রক্ষণশীল করে তোলে। এছাড়া ১৯৮৭-৮৮ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ তাঁর সামরিক ভাবমূর্তিকে শক্তিশালী করেছে।
মুজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে ‘অফিস অব দ্য সুপ্রিম লিডার’-এর নেপথ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে আসছেন। বিশ্লেষকরা তাঁর ভূমিকাকে প্রায়ই আয়াতুল্লাহ খোমেনির পুত্র আহমদ খোমেনির সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি ছিলেন তাঁর পিতার প্রধান আস্থাভাজন ও ‘গেটকিপার’। যদিও তিনি একজন মধ্যম সারির আলেম ছিলেন, তবে ইরানের শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং বাসিজ বাহিনীর ওপর তাঁর প্রভাব ছিল প্রশ্নাতীত। ২০০৫ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের বিজয়ের নেপথ্যে কারিগর হিসেবে মুজতবার নাম বারবার উচ্চারিত হয়েছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র মুজতবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন ট্রেজারির মতে, আলী খামেনি তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা পুত্রের হাতে ন্যস্ত করেছিলেন। বিশেষ করে ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ এবং ২০২২ সালে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর পর দেশব্যাপী চলা বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোরভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে মুজতবার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। ২০২২ সালে কোমের ধর্মীয় সেমিনারের একটি মাধ্যম তাঁকে ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত করে, যা মূলত তাঁকে সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ ছিল।
ইরানের বর্তমান অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুজতবা খামেনির নিয়োগের পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ কাজ করেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ: সুপ্রিম লিডারের দপ্তরে দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা এবং আইআরজিসির সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কারণে সেনাবাহিনীর ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ও গ্রহণযোগ্যতা অন্য যেকোনো আলেমের চেয়ে বেশি।
ক্ষমতার নিরবচ্ছিন্নতা: আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর শাসনব্যবস্থায় যেন কোনো ধরনের ভাঙন বা অভ্যন্তরীণ কোন্দল না তৈরি হয়, সেজন্য পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ হিসেবে মুজতবার ওপরই আস্থা রেখেছে বিশেষজ্ঞ পরিষদ।
বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা: পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েলের সরাসরি হামলার মুখে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মূল আদর্শ বজায় রাখতে একজন কঠোরপন্থী নেতার প্রয়োজন ছিল। মুজতবার পারিবারিক ঐতিহ্য এবং তাঁর অতীতের কঠোর নীতি তাঁকে এই পদের জন্য ‘নিরাপদ’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এতদিন পর্দার আড়ালে থেকে ক্ষমতার কলকাঠি নাড়লেও, মুজতবা খামেনি এখন এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে দায়িত্ব নিলেন যখন ইরান ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক ও অস্তিত্বের সংকটে নিমজ্জিত। পিতার ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে তিনি ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতি ও যুদ্ধকবলিত ইরানকে কোন দিকে নিয়ে যান, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন যৌথ বিমান হামলায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ইরান। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের হাল ধরতে এবং ইসলামি বিপ্লবের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মুজতবা হোসেইনি খামেনি।
১৯৬৯ সালে ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন মুজতবা খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তাঁর পিতা আলী খামেনি যখন ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন, তখন মুজতবা তেহরানে স্থানান্তরিত হন। তিনি তেহরানের অভিজাত ‘আলাভি হাই স্কুল’-এ পড়াশোনা করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি মূলত ইরানে শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ও অনুগত ব্যক্তিত্ব তৈরির জন্য পরিচিত।
পরবর্তীতে তিনি তেহরান ও কুমে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। কট্টরপন্থী ও প্রভাবশালী আলেম আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ-তাকি মেসবাহ ইয়াজদির অধীনে তাঁর শিক্ষা গ্রহণ মুজতবার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চিন্তাধারাকে আরও রক্ষণশীল করে তোলে। এছাড়া ১৯৮৭-৮৮ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ তাঁর সামরিক ভাবমূর্তিকে শক্তিশালী করেছে।
মুজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে ‘অফিস অব দ্য সুপ্রিম লিডার’-এর নেপথ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে আসছেন। বিশ্লেষকরা তাঁর ভূমিকাকে প্রায়ই আয়াতুল্লাহ খোমেনির পুত্র আহমদ খোমেনির সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি ছিলেন তাঁর পিতার প্রধান আস্থাভাজন ও ‘গেটকিপার’। যদিও তিনি একজন মধ্যম সারির আলেম ছিলেন, তবে ইরানের শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং বাসিজ বাহিনীর ওপর তাঁর প্রভাব ছিল প্রশ্নাতীত। ২০০৫ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের বিজয়ের নেপথ্যে কারিগর হিসেবে মুজতবার নাম বারবার উচ্চারিত হয়েছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র মুজতবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন ট্রেজারির মতে, আলী খামেনি তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা পুত্রের হাতে ন্যস্ত করেছিলেন। বিশেষ করে ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ এবং ২০২২ সালে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর পর দেশব্যাপী চলা বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোরভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে মুজতবার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। ২০২২ সালে কোমের ধর্মীয় সেমিনারের একটি মাধ্যম তাঁকে ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত করে, যা মূলত তাঁকে সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ ছিল।
ইরানের বর্তমান অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুজতবা খামেনির নিয়োগের পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ কাজ করেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ: সুপ্রিম লিডারের দপ্তরে দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা এবং আইআরজিসির সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কারণে সেনাবাহিনীর ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ও গ্রহণযোগ্যতা অন্য যেকোনো আলেমের চেয়ে বেশি।
ক্ষমতার নিরবচ্ছিন্নতা: আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর শাসনব্যবস্থায় যেন কোনো ধরনের ভাঙন বা অভ্যন্তরীণ কোন্দল না তৈরি হয়, সেজন্য পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ হিসেবে মুজতবার ওপরই আস্থা রেখেছে বিশেষজ্ঞ পরিষদ।
বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা: পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েলের সরাসরি হামলার মুখে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মূল আদর্শ বজায় রাখতে একজন কঠোরপন্থী নেতার প্রয়োজন ছিল। মুজতবার পারিবারিক ঐতিহ্য এবং তাঁর অতীতের কঠোর নীতি তাঁকে এই পদের জন্য ‘নিরাপদ’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এতদিন পর্দার আড়ালে থেকে ক্ষমতার কলকাঠি নাড়লেও, মুজতবা খামেনি এখন এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে দায়িত্ব নিলেন যখন ইরান ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক ও অস্তিত্বের সংকটে নিমজ্জিত। পিতার ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে তিনি ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতি ও যুদ্ধকবলিত ইরানকে কোন দিকে নিয়ে যান, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ‘দ্রুত ও স্থায়ী’ সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে চার শক্তিধর রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র
৭ ঘণ্টা আগে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এই সময়ে দেশটির অন্তত ৬০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
১০ ঘণ্টা আগে
ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে একসময় পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে একপ্রকার একঘরে করে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই পাকিস্তান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
১১ ঘণ্টা আগে
আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণ, বজ্রপাত, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
১২ ঘণ্টা আগে