আইআরজিসির নতুন কমান্ডার কে এই আহমদ ভাহিদি?

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ঢাকা

আহমদ ভাহিদি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’র (আইআরজিসি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ভাহিদি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সময়ে এই দায়িত্ব নিলেন তিনি।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ এবং দেশটির বহু শীর্ষ সামরিক নেতা হামলায় নিহত হয়েছেন। এর আগে আইআরজিসির সর্বশেষ প্রধান মোহাম্মদ পাকপৌর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার শুরুতেই নিহত হন। পাকপৌরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাঁর পূর্বসূরি হোসেইন সালামি নিহত হওয়ার পর। এই ধারাবাহিক নেতৃত্ব সংকটের মধ্যেই আইআরজিসির দায়িত্বে এসেছেন ভাহিদি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তি পরিচালনার কঠিন দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে।

দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা
আহমদ ভাহিদি আইআরজিসির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এই বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। ১৯৮০-এর দশকে তিনি দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে গোয়েন্দা ও সামরিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইআরজিসির অভিজাত কুদস ফোর্সের নেতৃত্বে ছিলেন। পরে এই বাহিনীর দায়িত্ব নেন কাসেম সোলাইমানি, যিনি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন। গত ডিসেম্বর মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ভাহিদিকে আইআরজিসির উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে যুদ্ধ শুরুর দিন খামেনি নিহত হওয়ার পর সামরিক নেতৃত্বে বড় শূন্যতা তৈরি হয়।

সামরিকের পাশাপাশি রাজনৈতিক ভূমিকা
ভাহিদি শুধু সামরিক কর্মকর্তা নন, তিনি ইরানের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সরকারে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। পরে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৪ সালে পদ ছাড়েন। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ও প্রশাসনিক উভয় ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তাঁকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করে তুলতে পারে।

বিতর্ক ও অভিযোগ
তবে ভাহিদির ক্যারিয়ার বিতর্কমুক্ত নয়। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করেছিল। ওই হামলায় ৮৫ জন নিহত হন, যদিও ইরান এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। এছাড়া ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বহু শীর্ষ সামরিক নেতা নিহত হওয়ার পর আইআরজিসির ভেতরে নেতৃত্ব সমন্বয় করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সামরিক ইউনিট বর্তমানে বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে কার্যক্রম সমন্বয়ে দক্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগের কারণে আহমদ ভাহিদি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হতে পারেন। তাঁদের মতে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার টিকে থাকা অনেকটাই নির্ভর করছে আইআরজিসির ওপর। আর সেই বাহিনীর চাবিকাঠি এখন ভাহিদির হাতে।

সম্পর্কিত