টাইমজ অব ইজরায়েলের প্রতিবেদন
স্ট্রিম ডেস্ক

ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একের পর এক যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক শক্তির আস্ফালন দেখাচ্ছে। গাজা-লেবাননসহ প্রতিবেশী জনপদে চরম অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি করছে। কিন্তু দেশটির নিজের অন্দরেই দানা বাঁধছে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট। বাইরে যুদ্ধের দামামা থাকলেও ভেতরে ক্ষুধার সাথে লড়াই করছে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ। ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স’ থেকে প্রকাশিত ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই রূঢ় সত্যটিই ফুটে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলের প্রায় ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে ৮ লাখ ৮০ হাজারই শিশু এবং ১ লাখ ৫০ হাজার জন বয়োবৃদ্ধ নাগরিক। অর্থাৎ, যারা সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত, দারিদ্র্যের কষাঘাত তাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি পড়ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশই এখন দরিদ্র। গত বছরের তুলনায় এই হার ০.৩ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ—প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন বড় হচ্ছে নিদারুণ অভাবের মধ্যে। উন্নত দেশগুলোর সংগঠন ওইসিডি-ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শিশু দারিদ্র্যের হারে ইসরায়েল এখন দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে। তাদের ওপরে রয়েছে কেবল কোস্টারিকা।
ইসরায়েলের বর্তমান মানদণ্ড অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি যদি মাসে ৩ হাজার ৫৪৭ শেকেলের (ইসরায়েলি মুদ্রা) কম আয় করেন, তাকে দরিদ্র ধরা হয়। দম্পতিদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৭ হাজার ৯৫ শেকেল। তবে প্রতিবেদনে একটি উদ্বেগের তথ্য উঠে এসেছে—পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি থাকলেই যে দারিদ্র্য ঘুচবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও অনেক পরিবার অভাবের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না।
যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা সংকুচিত হয়েছে, তার প্রমাণ মেলে এই তথ্যে যে—দেশের ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার মাসের খরচ কুলিয়ে উঠতে পারছে না। অভাবের তাড়নায় দেশের ৪ দশমিক৭ শতাংশ মানুষ অন্তত প্রতি দুই দিন অন্তর একবেলা অনাহারে থাকছে অথবা বাসি খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে। আরও আশঙ্কাজনক হলো, ৯ শতাংশ মানুষ অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা জীবনদায়ী ওষুধ কিনতে পারছে না।
সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য পরিলক্ষিত হচ্ছে কট্টরপন্থী ইহুদি হারিদি এবং আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে। হারিদি পরিবারের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আরব পরিবারের ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ চরম অভাবের সাথে লড়ছে। ইসরায়েলের মোট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সিংহভাগই (৬৫ দশমিক ১ শতাংশ) এই দুটি সম্প্রদায়ের। একদিকে আধুনিক শিক্ষার অভাব, অন্যদিকে ধর্মীয় ও জাতিগত প্রান্তিকতা তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগকে সীমিত করে দিয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের পকেটে স্পষ্ট। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আর রিজার্ভ ফোর্সে দীর্ঘকালীন ডিউটির ফলে পরিবারের মূল উপার্জনকারী ব্যক্তি কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ায় অনেক সচ্ছল পরিবারও এখন দারিদ্র্যের কাতারে নেমে এসেছে। ইসরায়েল সরকার যখন যুদ্ধের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢালছে, তখন দেশটির ভেতরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কেবলই বাড়ছে।
ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের উপ-মহাপরিচালক নিৎসা কিসার সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘এই রিপোর্ট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, শিশুদের পেছনে বিনিয়োগ আর সামাজিক সেবা বাড়ানো না হলে এই দারিদ্র্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়বে।’
ইসরায়েল যখন মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে মত্ত, তখন দেশের ভেতরে এক-চতুর্থাংশ শিশুর ক্ষুধার্ত থাকা এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাবঞ্চিত হওয়া দেশটির ভবিষ্যৎ সামাজিক কাঠামোকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান আর মানবিক বিনিয়োগের পথে না হেঁটে যুদ্ধের পথে হাঁটলে এই অভ্যন্তরীণ ক্ষতগুলো যে একদিন বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করবে, সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে এই বার্ষিক প্রতিবেদন।

ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একের পর এক যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক শক্তির আস্ফালন দেখাচ্ছে। গাজা-লেবাননসহ প্রতিবেশী জনপদে চরম অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি করছে। কিন্তু দেশটির নিজের অন্দরেই দানা বাঁধছে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট। বাইরে যুদ্ধের দামামা থাকলেও ভেতরে ক্ষুধার সাথে লড়াই করছে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ। ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স’ থেকে প্রকাশিত ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই রূঢ় সত্যটিই ফুটে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলের প্রায় ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে ৮ লাখ ৮০ হাজারই শিশু এবং ১ লাখ ৫০ হাজার জন বয়োবৃদ্ধ নাগরিক। অর্থাৎ, যারা সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত, দারিদ্র্যের কষাঘাত তাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি পড়ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশই এখন দরিদ্র। গত বছরের তুলনায় এই হার ০.৩ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ—প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন বড় হচ্ছে নিদারুণ অভাবের মধ্যে। উন্নত দেশগুলোর সংগঠন ওইসিডি-ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শিশু দারিদ্র্যের হারে ইসরায়েল এখন দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে। তাদের ওপরে রয়েছে কেবল কোস্টারিকা।
ইসরায়েলের বর্তমান মানদণ্ড অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি যদি মাসে ৩ হাজার ৫৪৭ শেকেলের (ইসরায়েলি মুদ্রা) কম আয় করেন, তাকে দরিদ্র ধরা হয়। দম্পতিদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৭ হাজার ৯৫ শেকেল। তবে প্রতিবেদনে একটি উদ্বেগের তথ্য উঠে এসেছে—পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি থাকলেই যে দারিদ্র্য ঘুচবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও অনেক পরিবার অভাবের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না।
যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা সংকুচিত হয়েছে, তার প্রমাণ মেলে এই তথ্যে যে—দেশের ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার মাসের খরচ কুলিয়ে উঠতে পারছে না। অভাবের তাড়নায় দেশের ৪ দশমিক৭ শতাংশ মানুষ অন্তত প্রতি দুই দিন অন্তর একবেলা অনাহারে থাকছে অথবা বাসি খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে। আরও আশঙ্কাজনক হলো, ৯ শতাংশ মানুষ অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা জীবনদায়ী ওষুধ কিনতে পারছে না।
সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য পরিলক্ষিত হচ্ছে কট্টরপন্থী ইহুদি হারিদি এবং আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে। হারিদি পরিবারের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আরব পরিবারের ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ চরম অভাবের সাথে লড়ছে। ইসরায়েলের মোট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সিংহভাগই (৬৫ দশমিক ১ শতাংশ) এই দুটি সম্প্রদায়ের। একদিকে আধুনিক শিক্ষার অভাব, অন্যদিকে ধর্মীয় ও জাতিগত প্রান্তিকতা তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগকে সীমিত করে দিয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের পকেটে স্পষ্ট। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আর রিজার্ভ ফোর্সে দীর্ঘকালীন ডিউটির ফলে পরিবারের মূল উপার্জনকারী ব্যক্তি কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ায় অনেক সচ্ছল পরিবারও এখন দারিদ্র্যের কাতারে নেমে এসেছে। ইসরায়েল সরকার যখন যুদ্ধের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢালছে, তখন দেশটির ভেতরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কেবলই বাড়ছে।
ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের উপ-মহাপরিচালক নিৎসা কিসার সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘এই রিপোর্ট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, শিশুদের পেছনে বিনিয়োগ আর সামাজিক সেবা বাড়ানো না হলে এই দারিদ্র্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়বে।’
ইসরায়েল যখন মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে মত্ত, তখন দেশের ভেতরে এক-চতুর্থাংশ শিশুর ক্ষুধার্ত থাকা এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাবঞ্চিত হওয়া দেশটির ভবিষ্যৎ সামাজিক কাঠামোকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান আর মানবিক বিনিয়োগের পথে না হেঁটে যুদ্ধের পথে হাঁটলে এই অভ্যন্তরীণ ক্ষতগুলো যে একদিন বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করবে, সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে এই বার্ষিক প্রতিবেদন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ‘দ্রুত ও স্থায়ী’ সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে চার শক্তিধর রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র
৮ ঘণ্টা আগে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এই সময়ে দেশটির অন্তত ৬০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
১১ ঘণ্টা আগে
ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে একসময় পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে একপ্রকার একঘরে করে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই পাকিস্তান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
১২ ঘণ্টা আগে
আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণ, বজ্রপাত, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
১৩ ঘণ্টা আগে