স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার থেকে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে। হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো, সামরিক ঘাঁটি, সরকারি ভবন এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। অভিযানের প্রথম ঘণ্টাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন।
এই হামলার পরপরই আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, সৌদি আরব নেপথ্যে থেকে এই সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং কার্যত এতে ‘ইন্ধন’ জুগিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারজন ব্যক্তির বরাতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইসরায়েল ও সৌদি আরব এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত এক মাসে একাধিকবার ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ইরানে হামলার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন। যদিও প্রকাশ্যে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত আলোচনায় সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় সৌদি যুবরাজ সতর্ক করেন যে, এই মুহূর্তে পদক্ষেপ না নিলে ইরান আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার পরও যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে তা কৌশলগত ভুল হবে বলেও তিনি মত দেন। একই সময়ে তার ভাই ও সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ওয়াশিংটনে গোপন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং হামলা না করার সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরেন। সংবেদনশীলতার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন এবং ইরানকে ইসরায়েলের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে বর্ণনা করছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সময়েই প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানি নেতাদের সঙ্গে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিলেন।
অভিযোগের বিপরীতে সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা থেকে বিরত থাকে। রিয়াদ জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের পর সৌদি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে সংযমের আহ্বান জানিয়ে আসছিল। তারা আশঙ্কা করছিল, বড় আকারের সংঘাত তাদের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা, বিশেষ করে ভিশন ২০৩০, ব্যাহত করতে পারে এবং তেল অবকাঠামো ইরানি প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
তবে ইরানের পাল্টা হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন এবং শহরাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এরপর সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানায়।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও জর্ডানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জন্য ইরানের হামলাকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ উল্লেখ করে এর নিন্দা জানায় এবং পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে।
রিয়াদ জানায়, তারা ‘সমস্ত সক্ষমতা’ ব্যবহার করতে প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দৃঢ় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোনো উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার নিন্দা করেনি কিংবা ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের অবস্থান ছিল দ্বিমাত্রিক ও কৌশলগত। একদিকে তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায়নি এবং নিজেদের ভূখণ্ডকে আক্রমণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়নি। অন্যদিকে তারা ইরানকে আঞ্চলিক প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে এবং সুযোগ পেলে তাকে দুর্বল করার পক্ষে ছিল। শিয়া নেতৃত্বাধীন ইরান ও সুন্নি নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিভিন্ন প্রক্সি সংঘাতের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করার অজুহাতে সুন্নি আরব রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক বিশ্লেষক একে কৌশলগত ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, কারণ এতে উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে আরব ভূখণ্ডে হামলা সুন্নি দেশগুলোর জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছে।
এমিরেটস পলিসি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ড. ইবতিসাম আল-কেতবি বলেন, ইরানের পাল্টা হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোকেই সরাসরি আগুনের লাইনে দাঁড় করিয়েছে এবং এটি তেহরানের কৌশলগত ভুল। উপসাগরীয় বিশ্লেষক আবদেলখালেক আবদুল্লাহর মতে, ইরান তার নিকটতম প্রতিবেশীদের বিচ্ছিন্ন করে নিজেকে আরও একঘরে করেছে। ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ড. ইয়োয়েল গুজানস্কি মনে করেন, হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় এগোতে পারে।
এখনো এটি রাষ্ট্রভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় যুদ্ধে রূপ নেয়নি। তবে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী, হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের মাধ্যমে প্রক্সি সংঘাত বাড়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মুসলিম বিশ্বে সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে উসকে দিতে পারে, তেল সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে এবং আরও আঞ্চলিক শক্তিকে সম্পৃক্ত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পাল্টা হামলার পর সৌদি আরবের সক্রিয় অবস্থান এবং পূর্ববর্তী লবিং মিলিয়ে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযান সম্ভাব্য আঞ্চলিক সাম্প্রদায়িক সংকটে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
তাদের মতে, সৌদি আরব ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সরাসরি সামরিক অংশ নিয়েছে—এমন প্রমাণ নেই। তবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চপর্যায়ের লবিং এবং ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন, রিয়াদ এই অভিযানে রাজনৈতিক গতি সঞ্চার করেছে। সৌদি সরকার বলছে, তারা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল না এবং কেবল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে শিয়া-সুন্নির সংঘাত এখনই যুদ্ধের পর্যায়ে যাওয়ার আশঙ্কা তেমন নেই। তবে ইরানের পাল্টা হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। সুন্নি রাষ্ট্রগুলোর ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে এবং তেহরান কূটনৈতিকভাবে আরও একঘরে হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি বাজার ও প্রক্সি সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এই সংকটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার থেকে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে। হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো, সামরিক ঘাঁটি, সরকারি ভবন এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। অভিযানের প্রথম ঘণ্টাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন।
এই হামলার পরপরই আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, সৌদি আরব নেপথ্যে থেকে এই সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং কার্যত এতে ‘ইন্ধন’ জুগিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারজন ব্যক্তির বরাতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইসরায়েল ও সৌদি আরব এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত এক মাসে একাধিকবার ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ইরানে হামলার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন। যদিও প্রকাশ্যে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত আলোচনায় সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় সৌদি যুবরাজ সতর্ক করেন যে, এই মুহূর্তে পদক্ষেপ না নিলে ইরান আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার পরও যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে তা কৌশলগত ভুল হবে বলেও তিনি মত দেন। একই সময়ে তার ভাই ও সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ওয়াশিংটনে গোপন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং হামলা না করার সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরেন। সংবেদনশীলতার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন এবং ইরানকে ইসরায়েলের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে বর্ণনা করছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সময়েই প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানি নেতাদের সঙ্গে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিলেন।
অভিযোগের বিপরীতে সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা থেকে বিরত থাকে। রিয়াদ জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের পর সৌদি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে সংযমের আহ্বান জানিয়ে আসছিল। তারা আশঙ্কা করছিল, বড় আকারের সংঘাত তাদের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা, বিশেষ করে ভিশন ২০৩০, ব্যাহত করতে পারে এবং তেল অবকাঠামো ইরানি প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
তবে ইরানের পাল্টা হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন এবং শহরাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এরপর সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানায়।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও জর্ডানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জন্য ইরানের হামলাকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ উল্লেখ করে এর নিন্দা জানায় এবং পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে।
রিয়াদ জানায়, তারা ‘সমস্ত সক্ষমতা’ ব্যবহার করতে প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দৃঢ় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোনো উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার নিন্দা করেনি কিংবা ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের অবস্থান ছিল দ্বিমাত্রিক ও কৌশলগত। একদিকে তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায়নি এবং নিজেদের ভূখণ্ডকে আক্রমণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়নি। অন্যদিকে তারা ইরানকে আঞ্চলিক প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে এবং সুযোগ পেলে তাকে দুর্বল করার পক্ষে ছিল। শিয়া নেতৃত্বাধীন ইরান ও সুন্নি নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিভিন্ন প্রক্সি সংঘাতের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করার অজুহাতে সুন্নি আরব রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক বিশ্লেষক একে কৌশলগত ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, কারণ এতে উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে আরব ভূখণ্ডে হামলা সুন্নি দেশগুলোর জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছে।
এমিরেটস পলিসি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ড. ইবতিসাম আল-কেতবি বলেন, ইরানের পাল্টা হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোকেই সরাসরি আগুনের লাইনে দাঁড় করিয়েছে এবং এটি তেহরানের কৌশলগত ভুল। উপসাগরীয় বিশ্লেষক আবদেলখালেক আবদুল্লাহর মতে, ইরান তার নিকটতম প্রতিবেশীদের বিচ্ছিন্ন করে নিজেকে আরও একঘরে করেছে। ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ড. ইয়োয়েল গুজানস্কি মনে করেন, হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় এগোতে পারে।
এখনো এটি রাষ্ট্রভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় যুদ্ধে রূপ নেয়নি। তবে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী, হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের মাধ্যমে প্রক্সি সংঘাত বাড়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মুসলিম বিশ্বে সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে উসকে দিতে পারে, তেল সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে এবং আরও আঞ্চলিক শক্তিকে সম্পৃক্ত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পাল্টা হামলার পর সৌদি আরবের সক্রিয় অবস্থান এবং পূর্ববর্তী লবিং মিলিয়ে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযান সম্ভাব্য আঞ্চলিক সাম্প্রদায়িক সংকটে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
তাদের মতে, সৌদি আরব ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সরাসরি সামরিক অংশ নিয়েছে—এমন প্রমাণ নেই। তবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চপর্যায়ের লবিং এবং ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন, রিয়াদ এই অভিযানে রাজনৈতিক গতি সঞ্চার করেছে। সৌদি সরকার বলছে, তারা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল না এবং কেবল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে শিয়া-সুন্নির সংঘাত এখনই যুদ্ধের পর্যায়ে যাওয়ার আশঙ্কা তেমন নেই। তবে ইরানের পাল্টা হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। সুন্নি রাষ্ট্রগুলোর ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে এবং তেহরান কূটনৈতিকভাবে আরও একঘরে হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি বাজার ও প্রক্সি সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এই সংকটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ‘দ্রুত ও স্থায়ী’ সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে চার শক্তিধর রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র
৯ ঘণ্টা আগে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এই সময়ে দেশটির অন্তত ৬০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
১১ ঘণ্টা আগে
ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে একসময় পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে একপ্রকার একঘরে করে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই পাকিস্তান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
১২ ঘণ্টা আগে
আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণ, বজ্রপাত, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
১৩ ঘণ্টা আগে