leadT1ad

চার বছর অপেক্ষার পর এসেছিল প্রথম সন্তান, হামের উপসর্গে মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি

বিয়ের চার বছর পর প্রথম সন্তানের মুখ দেখেছিলেন মাহবুর রহমান ও আতিকা খাতুন দম্পতি। সেই সন্তানকে বাঁচাতে ধার-দেনা করেও ছিলেন এই দরিদ্র দম্পতি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তার। ৬ মাস বয়সেই হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে শিশু আব্দুর রহমানের।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে মারা যায় শিশুটি। সকালে তার মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে দাফন করেছেন তাঁরা।

Ad 300x250

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাজারামপুর গ্রামে এই দম্পতির বাড়ি। মাহবুর আগে থেকেই মানসিক রোগী। নিয়মিত চিকিৎসা হলে একটু ভালো থাকেন। এবার শিশু আব্দুর রহমানের মৃত্যুতে পাগল প্রায় আতিকা খাতুনও।

দম্পতির স্বজনেরা জানান, প্রথম রোজার দিন বাচ্চাটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর গত ১০ মার্চ সে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন শরীরে হাম দেখা যায়। ১২ মার্চ তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে বাচ্চাটিকে পিআইসিইউতে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।

মাহবুর রহমানের বোন শারমিন খাতুন জানান, তার ভাই মানসিক রোগী। নিয়মিত চিকিৎসা হলে কিছুটা সুস্থ থাকেন। তখন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। চিকিৎসা না হলে অসুস্থ থাকেন। বিয়ের পর চার বছর পরও তাদের কোনো সন্তান হচ্ছিল না। অনেক চিকিৎসার পর আতিকা প্রথম সন্তানের মা হন। এতে তাদের আনন্দের সীমা ছিল না। কিন্তু এখন তারা বাচ্চাটির মৃত্যু মানতে পারছেন না। আতিকা খাতুনের অবস্থাও এখন পাগলপ্রায়।

শারমিন বলেন, চেষ্টার কোনো ত্রুটি হয়নি। গরীব মানুষ হয়েও এই কয়দিনে চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেছেন। মাহবুর মানসিক রোগী বলে অনেকে সাহায্য করেছেন। কিছু ধার-দেনাও হয়েছে। বাচ্চাটা বেঁচে থাকলে তাদের কোনো দুঃখ থাকত না।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে শুধু আব্দুর রহমানের নামের শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২০ জন। ছুটি দেওয়া হয়েছে চারজনকে। হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে এখন রোগী ১৩২ জন। এ পর্যন্ত মোট রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৪০ জন।

leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad