
কবি ও কথাশিল্পী

একুশ শতকের তৃতীয় দশকে বিশ্বরাজনীতি এক অভূতপূর্ব সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে ইউক্রেন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের অস্ত্রের ভান্ডার ও অর্থনীতিকে বিসর্জন দিচ্ছে। একদিকে কামানের গর্জন আর ক্ষেপণাস্ত্রের ঝিলিক যখন পরাশক্তিগুলোকে যুদ্ধের চোরাবালিতে নিমজ্জিত করছে, ঠিক তখনই হয়তো বেইজিংয়

মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে যা এতদিন ‘ওপেন সিক্রেট’ ছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মাত্র মন্তব্য এবং ইরানের সাম্প্রতিক বিধ্বংসী ড্রোন-মিসাইল হামলা তাকে আজ রূঢ় বাস্তবতায় রূপ দিয়েছে।

আঞ্চলিক পরাশক্তি ইরান-ইসরায়েলের দ্বৈরথ এখন আর কেবল প্রক্সি যোদ্ধাদের আড়ালে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা এক উন্মুক্ত রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে। এর একদিকে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিখুঁত সামরিক কূটনীতি, আর অন্যদিকে হাতছানি দিচ্ছে এক প্রলয়ংকরী পারমাণবিক সংঘাতের কৃষ্ণছায়া।

বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে ‘প্যারাডাইম শিফট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ভারত মহাসাগরের গভীরে সুরক্ষিত মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ সাধারণ পাল্টা আক্রমণ নয়; এটি তেহরানের পক্ষ থেকে বিশ্বশক্তির ভারসাম্যে এক পরিবর্তনের চূড়ান্ত ঘোষণা।

স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী একক মেরু বিশ্বব্যবস্থায় আমেরিকার যে নিরঙ্কুশ আধিপত্য ছিল, তা আজ এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। ওয়াশিংটন এখন আর কেবল একটি ফ্রন্টে মনোনিবেশ করে বৈশ্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে না।

২০২৬ সালের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ছায়া যুদ্ধের কৌশলগত পর্দা পুরোপুরি সরে গিয়ে এক সরাসরি সামরিক সংঘাতের সূচনা হয়েছে, যেখানে ইরান তার প্রক্সি নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সামরিক অপারেশনগুলোর নামকরণ লক্ষ্য করলে দেখা যায় সেখানে কামানের গোলার চেয়েও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে পবিত্র ধর্মগ্রন্থের একেকটি শ্লোক বা বিভিন্ন সুরা থেকে নির্বাচিত আয়াত।

পারস্য উপসাগরের অগভীর জলরাশিতে অবস্থিত ক্ষুদ্র পাথুরে ভূখণ্ড ‘খারগ দ্বীপ’ আজ বিশ্ব রাজনীতির দাবার বোর্ডে সবচেয়ে বিপজ্জনক ‘ফ্ল্যাশপয়েন্ট’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের নিয়ন্ত্রক এই দ্বীপটি কেবল একটি টার্মিনাল নয়, বরং তেহরানের অর্থনীতির প্রধান ধমনি।

তথ্য সংগ্রহের পরবর্তী ও অত্যন্ত জটিল ধাপ হলো সংগৃহীত এনক্রিপ্টেড বা সংকেতায়িত তথ্যের পাঠোদ্ধার করা। ইউনিট ৮২০০-এর গণিতবিদ ও প্রোগ্রামাররা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার এবং আধুনিক অ্যালগরিদম ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের সুরক্ষিত সামরিক কোড ও পাসওয়ার্ড ভেঙে ফেলে।

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এখন আর কেবল আকাশপথের ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ওয়্যারফেয়ার’ বা অবকাঠামোগত যুদ্ধের যুগে পদার্পণ করেছে।

ইরানের 'মোজাইক ডিফেন্স ডকট্রিন' হলো একটি বিকেন্দ্রীকৃত সামরিক কৌশল, যেখানে মোজাইকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরোর মতো প্রতিটি প্রদেশকে একেকটি স্বাধীন প্রতিরক্ষা ইউনিটে রূপান্তর করা হয়েছে।

মোজতাবা খামেনির শাসনামলে ইরান কি শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলোর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে, নাকি চীনের অখণ্ড সমর্থন ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে পুঁজি করে একটি নতুন এশীয় অক্ষের শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে আবির্ভূত হবে—তা-ই এখন বিশ্ব রাজনীতির প্রধান প্রশ্ন।

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েক দশকের ‘ছায়াযুদ্ধ’ সীমা অতিক্রম করে সরাসরি ও বহুমুখী প্রলয়ংকরী সংঘাতের রূপ নিয়েছে। এর একদিকে ইসরায়েল ও আমেরিকার সাঁড়াশি অভিযান, আর অন্যদিকে ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার মরিয়া লড়াই—এই দুই চরমপন্থার চাপে পড়ে পুরো অঞ্চলের মানচিত্র আজ এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।

বাবা ভাঙ্গা আর নস্ত্রাদামুসের কয়েক শতাব্দী পুরোনো সতর্কবার্তা আজ আর কেবল কথার কথা বলে মনে হচ্ছে না; ২০২৬ সালের মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র যেন তাদের সেই প্রলয়ংকরী পূর্বাভাসকেই সত্য প্রমাণ করতে চাইছে। প্রতি বছর সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসা এই দুই ভবিষ্যদ্বক্তার বাণী এবার যেন ভিন্ন এক মাত্রা পেয়েছে।

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়।

৪ মার্চ ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ইরানের 'ট্রুথফুল প্রমিজ ৪' অপারেশনের আওতায় গত কয়েকদিনে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বুর্জ আল আরবের মতো আইকনিক স্থাপনায় নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে উপনীত। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা, অন্যদিকে ইরানের কয়েক দশকের সুসংগঠিত প্রস্তুতি—‘মো

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক ও সামরিক কেন্দ্রবিন্দুগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তেহরানের আগ্রাসী নীতির বাস্তবায়ন ঘটাচ্ছে।

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিধ্বংসী যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দেহাবসান কেবল একটি রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতার মৃত্যু নয়, বরং এটি সমসাময়িক ভূ-রাজনীতির ইতিহাসে এক প্রলয়ঙ্কারী মোড়।

দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং পারস্পরিক অভিযোগের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত সংঘাত এখন সরাসরি সামরিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল হক’ বা ‘ন্যায়ের হামলা’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে যে ভাঙন ধরেছে, তা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ঘড়িতে যখন তেহরান সময় রাত ৩টা ১৫ মিনিট, ঠিক তখনই পারস্য উপসাগরের নিস্তব্ধতা ভেঙে গর্জে ওঠে ইসরায়েলি স্টিলথ ফাইটার জেটের ইঞ্জিন।

২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের পর ২০২৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় ইসরায়েল সফর বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। এই সফর প্রমাণ করে ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক এখন আর কেবল সামরিক বা বাণিজ্যিক লেনদেনে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি একটি শক্তিশালী আদর্শিক ও কৌশলগত জোটে রূপ নিয়েছে।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান সুসংহত করতে আন্দামান সাগরে এক বিশাল শক্তি প্রদর্শন করল ভারত, জাপান এবং ইন্দোনেশিয়া। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই তিন দেশের নৌবাহিনী একটি উচ্চপর্যায়ের ত্রিপাক্ষিক মহড়ায় অংশ নিয়ে তাদের সামরিক সক্ষমতার জানান দেয়।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর বর্তমানে ইতিহাসের এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা রক্ষার চ্যালেঞ্জ আর ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবের এক সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ৭ কোটিরও বেশি মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়, যা প্রযুক্তির এক বিশাল জয়যাত্রা। কিন্তু এই অগ্রগতির সমান্তরালে হানা দিয়েছে ‘ডিপফেক’ নামক এক ভয়ংকর ডিজিটাল আতঙ্ক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা বিকৃত কনটেন্ট এখন সুস্থ রাজনীতির জন্য প্রধান অন্তরায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে পদার্পণ করলেও, নতুন সরকারের জন্য মসৃণ পথের চেয়ে কাঁটা বিছানো চ্যালেঞ্জই বেশি বলে মনে করি।

বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নে ২০০৯ সালে গ্রহণ করা হয়েছিল দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কেবল সরঞ্জাম কেনায় সীমাবদ্ধ না থেকে ‘প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল’ গড়ে তোলার মাধ্যমে সামরিক স্বনির্ভরতার এক

গান শুধু বিনোদনের জন্য নয়। যুগে যুগে, দেশে দেশে গান হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের ভাষা। ফোক থেকে হিপ-হপ, গণসংগীত থেকে রক—অন্যায়, বৈষম্য আর দমননীতির বিরুদ্ধে মানুষের কণ্ঠস্বর বহন করেছে সুর। যখন কথা বলার পথ রুদ্ধ হয়েছে, তখন গানই জ্বালিয়েছে প্রতিরোধের আগুন, একত্র করেছে ভিন্ন মানুষকে একই লড়াইয়ে।

ফিল্টার তৈরি করে এক ধরনের পারফেক্ট জীবনের ভ্রম, ফোমো মানসিক চাপ ও তুলনার জন্ম দেয়, আর ফিউশন বিভিন্ন দেশ–সংস্কৃতিকে মিশিয়ে নতুন হাইব্রিড কালচার তৈরি করে। এই তিনটি মিলেই সোশ্যাল মিডিয়ার সাংস্কৃতিক প্রভাবকে গড়ে তুলছে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের কয়েকঘন্টা আগে মিরপুরে কয়েক হাজার বছর আগের ইতিহাস যেন ভিন্ন প্রেক্ষিত এবং পটভূমিতে সেদিন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। এ যেন মিরপুর নয়, মিরপুর সেদিন যেন প্রাচীন গ্রীসের এথেন্স নগরী।

১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে এবং ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে পাকিস্তান বাহিনীর ৪ আর্মি এভিয়েশন স্কোয়াড্রনের পাইলট এবং বেশ কিছু সেনা কর্মকর্তা বার্মার (মায়ানমার) উদ্দেশ্যে সপরিবারে হেলিকপ্টারে করে পালিয়েছিলেন।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। লাঞ্চ আওয়ার, ঢাকা সেনানিবাস। কয়েকঘন্টা পর আত্মসমর্পণ করবে পাকিস্তান বাহিনী। খাবারের টেবিলে পাকিস্তানি অফিসাররা।

ক্র্যাক প্লাটুনের মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল আলম (বীর প্রতীক)-এর কাছে খবর আসে যে ভারতীয় আর্মি কমান্ড ঢাকা রেডিও স্টেশনের মাধ্যমে জনগণের উদ্দেশে বিজয়ের ঘোষণা করবে। এটা শুনে তাঁর মনেহলো যেহেতু বাংলাদেশ সরকার এবং মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি ও উপ-সেনাপ্রধান কলকাতায় অবস্থান করছেন সেহেতু বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল সেক্টর-২

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই ছিল না। এটি ছিল সামরিক কৌশল প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই যুদ্ধে মিত্রবাহিনী গঠিত হয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে।

সময় : ১৯৭২ সালের এক অবসন্ন দুপুর। স্থান : ঢাকার একটি বীরাঙ্গনা পুনর্বাসন কেন্দ্র। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ দিনগুলোর শেষে বাবা আর মেয়ের পুনর্মিলন ঘটেছে। মেয়ে কান্নার প্রবল আবেগ সামলে দৌড়ে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে। গত এক বছরে সবকিছুই অনেক বদলেছে, বাবাও। তিনি যেন আরও বুড়ো হয়ে গেছেন।

আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধ কি কনভেনশনাল যুদ্ধ নাকি ইনসারজেন্সি অপারেশন? অনেকেরই এই বিষয়ে ধারণা পরিষ্কার নয়। তবে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হলে শুরুতেই জানতে হবে ইনসারজেন্সি এবং কাউন্টার ইনসারজেন্সি অপারেশন কী?

বর্তমানে বিশ্ব ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়েছে, আর ভারত মহাসাগর অঞ্চল হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রস্থল। এ অঞ্চলে চীন তার ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ কৌশল ও ‘ব্লু ওয়াটার নেভি’ নিয়ে প্রভাব বিস্তার করছে, যা দিল্লির জন্য সরাসরি নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

১৯৭১ সালের ৪ঠা এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানেই প্রণীত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল, যা তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত। অসংগঠিত ও বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হওয়া এই যুদ্ধকে সংগঠিতভাবে পরিচালনা করার জন্য তেলিয়াপাড়া বৈঠকের আয়োজন করা

টিকটক, রিলস আর গেমিংয়ের ভিড়ে ড্রিফট ফঙ্ক ও ব্রাজিলিয়ান ফাঙ্ক মিউজিক জনরা বিশ্বজুড়ে জেনারেশন জি–আলফার আচরণ, অভিব্যক্তি ও অনলাইন পরিচয়ের নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই দুই জনরা দুনিয়াজুড়ে কেন এত জনপ্রিয়? কীভাবে এই মিউজিক জেন জি–আলফার নতুন অনলাইন কালচার হয়ে উঠছে?

লাতিন আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে ভেনেজুয়েলা আজ এক ভয়াবহ দ্বৈরথের কেন্দ্রবিন্দু—যেখানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেলভাণ্ডারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি দেশ গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটে ধুঁকছে।

ম্যানিলার রাজপথ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এক নতুন প্রজন্মের উত্থানের সাক্ষী, তারা হলো জেন-জি। বিশ্বের নানা প্রান্তে তরুণরা যখন জলবায়ু থেকে ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার, তখন এশিয়াও এই পরিবর্তনের ঢেউয়ে ভাসছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি সুনির্দিষ্ট শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে, যা কিয়েভ এবং পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই প্রস্তাবের মূল ভিত্তি হলো যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ইউক্রেনকে তার সার্বভৌম ভূখণ্ডের উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশেষত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি-বিসাউয়ে গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী খবরটি পরদিন ভোরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসে। একদল সেনা কর্মকর্তা ক্ষমতা দখল করে গ্রেপ্তার করেছে প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এমবালোকে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সমাজের দায়বদ্ধতা এবং তাদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ—এই দুই কঠিন বাস্তবতার মাঝে শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আমাদের সমাজে এখনো পর্যাপ্ত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক সহায়তার অভাব রয়েছে।

জাপানে ‘রেন্ট-এ-গার্লফ্রেন্ড’ নামে বিচিত্র এক সংস্কৃতির উদ্ভব ঘটেছে। এটি জাপানে এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে ২০১৭ সাল থেকে এই বিষয়বস্তু নিয়ে জনপ্রিয় মাঙ্গা সিরিজও তৈরি হয়েছে। সিরিজগুলো প্রকাশের পর ‘রেন্ট-এ-গার্লফ্রেন্ড’ সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে এক চরম ভূ-রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আঞ্চলিক সংঘাতের তীব্রতা আর প্রতিটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা মিলিতভাবে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করেছে। এমনকি এই অস্থিরতার ঢেউ বাংলাদেশের স্থিতিশীলতায় আঘাত হানার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তকারী ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোর হলো এক চরম কৌশলগত সংবেদনশীল ভূখণ্ড, যা সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে ভারতের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত। এই করিডোরের একদিকে চীন নিয়ন্ত্রিত চুম্বি উপত্যকা, অন্যদিকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত অবস্থিত।

সুদানে চলমান সংঘাত শুধু দেশটির সামরিক বাহিনী (এসএএফ) এবং আধাসামরিক গোষ্ঠী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) অভ্যন্তরীণ লড়াই নয়। এটি আসলে আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর স্বার্থের সংঘাতেরও একটি ক্ষেত্র।

আফ্রিকার আকাশে তুরস্কের তৈরি বায়রাক্তার টিবি২ ড্রোনের উপস্থিতি নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। পূর্ব আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে বৃহত্তম বিদেশী সামরিক ঘাঁটি গেড়ে বসেছে আঙ্কারা।

লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত জলপথ, যা এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুদান লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ায়, তার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সরাসরি এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত লোহিত সাগরে প্রভাব বিস্তার করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিয়