leadT1ad

জ্বালানি নেই অনেক পাম্পে, রেশনিংয়ে ক্ষোভ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

রাজধানীর পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল বিক্রিতে অস্থিরতা কাটছে না। স্ট্রিম ছবি।

রাজধানীর অনেক পাম্পে মিলছে না জ্বালানি তেল। যে পাম্পগুলোতে মিলেছে, সেগুলোতেও রেশনিং করা হচ্ছে। অপেক্ষা করে চাহিদামতো তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, গাবতলী, দারুসসালাম ও আসাদগেটের ৭টি পাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

Ad 300x250

রাজধানীর মাজার রোডে অবস্থিত এস পি ফিলিং স্টেশন, গাবতলীতর ট্রেড কনসোর্টিয়াম ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স রায়হান ফিলিং স্টেশনে একদম তেল নেই। এসব স্টেশনের সামনে ডিজেল-অকটেন নেই লেখা ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাম্পের সামনে সিকিউরিটি গার্ড মাইকে জ্বালানি তেল না থাকার ঘোষণা দিচ্ছেন। তবে এই স্টেশনগুলোতে শুধু এলপিজি গ্যাস দিতে দেখা গেছে। এসব স্টেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, অকটেন দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না। ডিজেলও ৩-৪ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে মেসার্স রায়হান ফিলিং স্টেশনের ডেপুটি ম্যানেজার মোমিনুল ইসলাম লিটন স্ট্রিমকে বলেন, ‘অকটেন ১৫ দিন আগে সর্বশেষ পেয়েছিলাম। এরপর আর পাইনি। ডিজেল গত ৩ দিন আগে ৯ লিটার হাজার পাইছি। শুক্রবার দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আজ বলে আগামীকাল দেবে। ডিপো থেকেই তেল পাওয়া যায় না। আমরা কেমনে দিব বলেন।’

একই কথা জানিয়েছেন ট্রেড কনসোর্টিয়াম ফিলিং স্টেশনের লজিংম্যান মাহবুবুল আলম।

গাবতলীতর ট্রেড কনসোর্টিয়াম ফিলিং স্টেশনে টানানো ব্যানার। স্ট্রিম ছবি
গাবতলীতর ট্রেড কনসোর্টিয়াম ফিলিং স্টেশনে টানানো ব্যানার। স্ট্রিম ছবি

রাজধানীর মিরপুর সনি হলের বিপরীত পাশের ফিলিং স্টেশন স্যাম আসোসিয়েটস লিমিটেড, দারুসসালামের খালেক সার্ভিস সেন্টার, আসাদগেটের মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশন ও সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল পাওয়া গেলেও রেশনিং করতে দেখা গেছে।

স্যাম আসোসিয়েটস লিমিটেড ও খালেক সার্ভিস সেন্টার মোটরসাইকেলে ৩০০ টাকার এবং গাড়িতে ১৫০০ টাকার তেল দিচ্ছে। আর মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশন ও সোনার বাংলা ফিলিংস্টেশন মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার এবং গাড়িতে ২ হাজার টাকার তেল দিচ্ছে।

খালেক সার্ভিস সেন্টারে এক গ্রাহককে জ্বালানি নেওয়ার পর বলতে শোনা যায়, ‘সপ্তাহে ৬ দিন অফিস করতে হয়, ৫০০ টাকার তেল ছাড়া কেমনে চলব। আপনেরা তো সব সময় তেল দেন না।’

রেশনিং পদ্ধতিতে অসন্তুষ্ট ভোক্তারা

৪ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ২ লিটার তেল পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্যাম আসোসিয়েটস লিমিটেডে তেল নেওয়া মোটরসাইকেল আরোহী বিল্লাল বলেন, ‘সকাল ৮টার সময় পাম্পে আসছি। এখন ১২ টা বাজে। ৪ ঘণ্টা পর তেল পাচ্ছি। এভাবে প্রতিদিন ৩-৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর ফলে কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে। আবার তেল যা চাচ্ছি, তা পাচ্ছি না। মাত্র ৩০০ টাকার তেল দিচ্ছে। এটাতো ১ দিনেই শেষ হয়ে যায়।’

একই অভিযোগ জানিয়ে ওই স্টেশনে তেল নেওয়া আরেক মোটরসাইকেল আরোহী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তেল সংকটের কারণে ঈদের পর প্রথম গাড়ি নামাইলাম। মিরপুর ১১ নাম্বার থেকে গাড়ি টেনে নিয়ে আসছি। এখন ৩০০ টাকার তেল দিচ্ছে। এ তেল দিয়ে কতক্ষণ চলতে পারব, জানি না।’

আর ২ লিটার তেলের জন্য ১ লিটার তেল খরচ হওয়ার আক্ষেপ করে ব্যাংকে কর্মরত কাঁকন বিশ্বাস বলেন, ‘সকাল ১০টায় তেলের খোঁজে বের হইছি। প্রথমে সাত রাস্তার সিটি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখি তেল নেই। এরপর মহাখালীর এক পাম্পেও একই পরিস্থিতির শিকার হই। ট্রাস্টের লাইন দেখে দাঁড়ানোর সাহস পাইনি। এরপর কল্যাণপুর, গাবতলির পাম্পগুলোতে গিয়েও তেল পাইনি। এখানে পৌনে ১১টার দিকে আসছি, তখন দেখি তেল আনলোড হচ্ছে। এখন শুনি ২ লিটার তেল দেবে। এর জন্য ১ লিটার তেল খরচ করে ফেলছি।’

টানা দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর খালেক সার্ভিস সেন্টার থেকে তেল পান বেসরকারি চাকুরিজীবী আশরাফুল ইসলাম। তেল পাওয়ার পর তিনি বলেন, ‘দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল পেলাম। তা-ও ২ লিটার তেল। এটাতো অর্ধেক বেলায় শেষ হয়ে যায়।’

একই অভিযোগ জানিয়ে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা মোটরসাইকেল আরোহী সুলতান বলেন, ‘সাড়ে ১২টা থেকে তেলের অপেক্ষায় আছি। এখনও পাইনি। আবার শুনছি ৫০০ টাকার তেল দিবে। এ দিয়ে কিছু হয়। এটাতো ট্যাঙ্কির তলায় পড়ে থাকে।’

আসাদগেটে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন। স্ট্রিম ছবি
আসাদগেটে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন। স্ট্রিম ছবি

চাহিদা অনুযায়ী তেল নেই পাম্পে

রেশনিং পদ্ধতিতে ভোক্তারা অসন্তুষ্ট হলেও পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদা অনুযায়ী তেল পাম্পেই নেই। যদি মোটরসাইকেল ও গাড়িতে পুরোপুরি তেল দিতে হয়, তবে লাইনে অপেক্ষায় থাকা সবাইকে তেল দেওয়া সম্ভব হবে না। এ জন্য রেশনিং পদ্ধতিতেই তেল দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্যাম আসোসিয়েটস লিমিটেডের ক্যাশিয়ার আরাফাত স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা আজকে সাড়ে ৪ হাজার লিটার তেল পেয়েছি। এই তেল আমরা মোটরসাইকেলের জন্য ৩০০ ও গাড়ির জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে বিক্রি করছি। কারণ, এর বেশি তেল দিলে আমরা কুলাইতে পারব না। সে জন্য প্রতিদিন এভাবেই তেল দিয়ে আসছি।’

একই কথা জানিয়ে খালেক সার্ভিস সেন্টারের ক্যাশিয়ার হীরণ আহমেদ বলেন, ‘আজকে মাত্র ৪ হাজার তেল পেয়েছি। মোটরসাইকেলে ৩০০ টাকা ও গাড়িতে ১৫০০ টাকার করে জ্বালানি দিচ্ছি। এর বেশি দেওয়ার তো কোন উপায় নেই। আজকে আর আসবে কিনা, তা-ও জানিনা৷ এলে দিব, না আসলে তো আর কিছু করার নেই।’

আর চাহিদা অনুযায়ী কখনই তেল মিলছে না অভিযোগ করে মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার তন্ময় স্ট্রিমকে বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে তেলের গাড়ি এল৷ এখনো দেওয়া শুরু করতে পারিনি। সাড়ে ১৩ হাজার লিটার তেল পাইছি। সব সময় এমনিই পাচ্ছি। আবার কখনো কমও পাচ্ছি। বেশি মিলছে না।’

leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad