leadT1ad

ইসরায়েলি হামলায় শিশুদের স্বর্গে আর কিছুই নেই

তথ্যসূত্র:
তথ্যসূত্র:
সিএনএন

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ১৩
ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সংগীতশিল্পী হামিদ্রা আফরিদেহ। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ‘হোনিয়াক মিউজিক একাডেমি’র ঘরগুলো একসময় সেতারের ঝংকার আর সন্তুরের মিষ্টি সুরে মুখরিত থাকত। ইরানি সংগীতশিল্পী হামিদরেজা আফরিদেহ এবং তাঁর স্ত্রী শায়দা এবাদতদোস্তের ১৫ বছরের পরিশ্রমের ফসল এই একাডেমি। কিন্তু গত ২৩ মার্চের ইসরায়েলি বিমান হামলা কয়েক মুহূর্তেই শিশুদের এই সুরের স্বর্গকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে হামিদরেজা আফরিদেহ বলেন, ‘আমার স্ত্রী আর আমি মিলে ১৫ বছর ধরে যা কিছু গড়ে তুলেছিলাম, এক রাতেই শেষ হয়ে গেল। এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’

Ad 300x250

হামলার দিন ভোরের দিকে যে ভবনে সংগীত একাডেমি অবস্থিত, সেটির অ্যালার্ম সিস্টেম বেজে ওঠে। চুরির চেষ্টা হচ্ছে ভেবে হামিদরেজা ও তাঁর স্ত্রী দ্রুত সেখানে ছুটে যান। কিন্তু গন্তব্যের কাছে পৌঁছাতেই তাঁরা দেখতে পান আকাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। তেহরানের পূর্ব দিকে অবস্থিত ওই ভবনে একটি প্রসূতি ক্লিনিকসহ বেশ কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছিল।

উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর চতুর্থ তলায় নিজেদের স্টুডিওতে ঢুকে তাঁরা স্তম্ভিত হয়ে যান। বিস্ফোরণে জানালার কাচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে এবং বাইরের দেয়াল ধসে পড়েছে। ভেতরে থাকা দামি অডিও সিস্টেম, সেতার, গিটারসহ সব বাদ্যযন্ত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। হামিদরেজা জানান, এমনভাবে সব ছাই হয়েছে যেন সেখানে আগে কোনো কিছুরই অস্তিত্ব ছিল না।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, তারা ওই এলাকার কাছে কুদস ফোর্সের একটি গোয়েন্দা সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হামলা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই করা হয়েছে এবং ‘সামরিক অর্জনের গুরুত্ব’ পার্শ্ববর্তী ভবনের ‘গৌণ ক্ষয়ক্ষতি’র চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

হোনিয়াক একাডেমিতে ২৫০ শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই ছিল শিশু। অনেক শিশুর কাছে এই জায়গা ‘দ্বিতীয় বাড়ি’, যেখানে তারা শান্তি ও নিরাপত্তা খুঁজে পেত। এছাড়া সেখানে কাজ করতেন ২৪ জন শিক্ষক ও কর্মচারী, যাঁদের বেশিরভাগই ২০-এর কোঠায় থাকা তরুণ। যুদ্ধের এই সংকটকালে তাঁরা সবাই এখন কর্মহীন।

হামিদরেজার মতে, তাঁদের প্রায় ৪২ হাজার মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১ লাখ টাকার বেশি) সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ইরানের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংগীত সংগঠনের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন এই দম্পতি। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় সেই সহায়তা কবে আসবে, তা অনিশ্চিত।

আফরিদেহ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘ইরানের মতো হাজার বছরের পুরোনো সংস্কৃতির দেশে সংগীতই আমাদের মূল পরিচয়। আমরা যখন আমাদের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছি, তখন এমন ধ্বংসযজ্ঞ মেনে নেওয়া কঠিন।’

উল্লেখ্য, ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন ও হস্তশিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় দেশজুড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ১১৪টি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, জাতীয়ভাবে নিবন্ধিত স্থাপনা এবং সংবেদনশীল প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত নিদর্শনের তালিকায় ৪৮টি জাদুঘর এবং তেহরানের ইসফাহান, সানান্দাজ, কেরমানশাহ, কোম ও খানসার শহরের ছয়টি ঐতিহাসিক নগর এলাকা রয়েছে।

leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad