স্ট্রিম ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আগামী ১৫ মার্চ সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর তিনি এই ঘোষণা দেন।
এর আগে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হয় এবং তিনি অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো হলো- সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি, সংসদ কমিটি, বিশেষ কমিটি গঠন, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটি।
এরমধ্যে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি, সংসদ কমিটি গঠন করে দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর বাকি তিনটি কমিটির প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। পরে সেগুলো সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে পাশ হয়।
শেয়ার করুন
সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা স্পিকারকে অনুরোধ করেছিলাম তাকে যাতে ভাষণ দিতে দেওয়া না হয়। তারা আমাদের কথা রাখেননি। আমরা সংক্ষুব্ধ হয়ে সংসদ থেকে বেরিয়ে এসেছি। আগামীতে এই সংসদে কোনো অন্যায়কে আমরা বরদশাত করব না। আমরা জনগণের স্বার্থের পক্ষে লড়াই করে যাব।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দিতে এলে ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যান বিরোধী দলীয় নেতারা। ডা. শফিকুর বলেন, আমরা দেশবাসীর অধিকারের পক্ষে কাজ করব। আমরা রাষ্ট্রপতির বৈধতা বহু আগে অস্বীকার করেছি। প্রত্যাখ্যান করেছি।
শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে দেওয়া ভাষণে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে।’
‘নির্বাচন কমিশন যাতে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসে বলীয়ান থাকতে পারে, বর্তমান সরকার আগামী দিনের নির্বাচনী কার্যক্রমে সেটি সমুন্নত রাখবে। নির্বাচন কমিশনের মতো দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আইনানুযায়ী স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, বর্তমান সরকার সেটি নিশ্চিত করবে,’ যোগ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখের বেশি প্রবাসী নিবন্ধিত হয়েছেন। এটি নির্বাচন কমিশনের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যক্রমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চর্চার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলছে।
‘এক্ষেত্রে নবগঠিত সরকারের সামনে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই বিরাট চ্যালেঞ্জ। পথ কঠিন হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই বাধা অতিক্রম অসম্ভব নয়। সরকারি এবং বিরোধী দলগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করলে খুব সহজেই দ্রুততার সঙ্গে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে।’
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, ‘যেসব পরিকল্পনাকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার জনরায়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে, সে অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলীয় সম্মানিত সংসদ সদস্যরা জাতির নিকট দায়বদ্ধ। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়—এ বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।’
শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বক্তব্যের সময় অধিবেশন ওয়াকআউট করেছেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা।
এসময় তাঁরা ‘স্বৈরাচার ও গণতন্ত্র একসঙ্গে চলে না’, ‘স্বৈরাচারের দোসরেরা, হুঁশিয়ার-সাবধান’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
জামায়াত ও এনসিপির সদস্যদের অক আউটের পর রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলে বিএনপির সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।
শেয়ার করুন

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে সংসদ হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সংসদের কার্যবিধি অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জাতীয় সংসদের
স্পিকার ভাষণ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান।
এসময় তাঁরা হাতে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’-সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। স্পিকার এ সময় বারবার সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানান।
এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি প্রবেশের হুইসেল বাঁজলে জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা বসে পড়েন। পরে জাতীয় সংগীত শুরু হলে সবাই দাঁড়িয়ে যান।
তবে জাতীয় সংগীত শেষ হওয়ার পরপরই সংসদ সদস্যরা আবার ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি বক্তব্য দিতে শুরু করলে অধিবেশনে হট্টগোল চালাতে থাকেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা।
শেয়ার করুন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়।
ঘোষিত তালিকায় রয়েছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির এমপি মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-২ আসনে বিএনপির এমপি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নরসিংদী-১ আসনে বিএনপির এমপি আব্দুল মইন খান, কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির এমপি মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী এবং রংপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাদের নাম ঘোষণা করে বলেন, ‘স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বৈঠকে উপস্থিত সভাপতিমণ্ডলীর তালিকায় যার নাম শীর্ষে থাকবে, তিনি স্পিকারের আসন গ্রহণ করবেন।’
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালির অংশ হিসেবে প্রতিটি অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সংসদের কার্যক্রম সচল রাখতে এই সদস্যরা পর্যায়ক্রমে অধিবেশন পরিচালনা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের কার্যসূচিতে স্পিকার নির্বাচন, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শপথের পর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়নের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।
শেয়ার করুন
সংসদ সদস্যদের কার্যপ্রণালীবিধি পড়ার অনুরোধ করেছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে শোকপ্রস্তাবে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য রাখার সময় তিনি এমন কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, ‘অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে একটি বিষয় উপস্থাপন করতে চাই—কার্যপ্রণালী বিধি প্রত্যেক সংসদ সদস্যের জন্য বাইবেলের মতো। এটি অনুগ্রহ করে আপনারা মনোযোগসহকারে পড়বেন, বিশেষ করে নবীন সদস্যরা। একটি আচরণবিধি হলো, স্পিকার যখন কোনো সদস্যের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন, সেই সদস্য তখন নিজের আসনে বসে পড়বেন। ভবিষ্যতে আপনারা এটি পালন করবেন। এটাই সংসদীয় রীতিনীতি।’
জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সম্পাদন ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত ও অনুমোদিত কাঠামো হলো কার্যপ্রণালী বিধি। সংবিধানের ৭৫(১)(ক) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সংসদ কর্তৃক গঠিত কমিটির পেশকৃত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এটি প্রণীত।
শেয়ার করুন
ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানের ফসল এই জাতীয় সংসদে কোনো ফ্যাসিস্ট বা তাদের দোসর যেন বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারে, স্পিকারের কাছে সেই দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদ ও এর দোসরমুক্ত জাতীয় সংসদ চাই।’
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই-আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের ওপর আনা শোকপ্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা-১১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে ৫ আগস্টের (৩৬ জুলাই) স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘ছাত্র-জনতার মিছিল নিয়ে আমি ও আমার সহযোদ্ধারা এই জাতীয় সংসদের প্রাঙ্গণেই এসেছিলাম এবং ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছিলাম। আজ এই মহান সংসদে কথা বলতে পারছি, সে জন্য আল্লাহ তায়ালা ও জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ চার বছরের শিশু আহাদ, ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপের মতো প্রায় দেড় শ শিশু শহীদ হয়েছে। পুলিশের এপিসি থেকে ফেলে দেওয়া শহীদ ইয়ামিন কিংবা সাভারে পুলিশের গাড়িতে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা কিশোর সজলের মতো অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগে এই নতুন বাংলাদেশ।
এ সময় তিনি দশম শ্রেণির ছাত্র শহীদ আনাসের লেখা একটি চিঠির উদ্ধৃতি দেন। আনাস তার মাকে লিখেছিল, ‘একটি প্রতিবন্ধী কিশোর, সাত বছরের বাচ্চা, ন্যাংড়া মানুষ যদি সংগ্রামে নামতে পারে, তাহলে আমি কেন বসে থাকব ঘরে? একদিন তো মরতেই হবে, তাই মৃত্যুর ভয় করে স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে না থেকে সংগ্রামে নেমে বীরের মতো মৃত্যু অধিক শ্রেষ্ঠ।’
এই অভ্যুত্থানে ভ্যানগার্ড হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং বিভিন্ন বামপন্থী ও ইসলামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নাহিদ। একই সঙ্গে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের শহীদ, আবরার ফাহাদ, ফেলানী থেকে শুরু করে বিগত সরকারের আমলের গুম-খুন ও লুটের বিচার দাবি করেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান কেবল একটি ঘটনা নয়, বরং নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই মানেই এক অন্তর্ভুক্তি ও বৈষম্যহীন দেশ, জুলাই মানেই আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিজমমুক্ত দেশ। আমরা শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো বেইমানি করব না।’
শেয়ার করুন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই দেখা দিয়েছে মাইক বিভ্রাট। মূলতবি বিরতির পরে নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভা পরিচালনা শুরু করার পরই মাইকে সমস্যা শুরু হয়। পরে স্পিকার হ্যান্ডমাইক দিয়ে সভা শুরু করেন। কিছুক্ষণ সভা পরিচালনা করে তিনি বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাইকে সমস্যা হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। এখন জোহরের আজান দিচ্ছে। সংসদ অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য বিরতি দেওয়া হলো।
পরে শোকপ্রস্তাবের সময়ে আবারও এই মাইক বিভ্রাট দেখা দেয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও মাইক বিভ্রাটের কথা জানিয়েছেন। পরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি মাইক নিয়ে বলেন, ‘আমাদের সামনের বিরোধী দলীয় নেতাদের পেছনের সারিতে দুটি মাইক কাজ করছে না। আরও কয়েকটি মাইক কাজ করছে না। তারা মাইকে কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না। সবাই অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি আপনি একটু দেখবেন।’
জবাবে স্পিকার বলেন, ‘অধিবেশনে বসার আগেই আমাকে জানানো হয়েছে যে কয়েকজন সদস্যের মাইক ডিস্টার্ব করছে। তারা তাদের মাইক থেকে বক্তব্য রাখতে পারবেন না। তারা যদি বক্তব্য রাখতে চান, আমি অনুরোধ করবো পাশের আসনের বা অন্য যার মাইক কাজ করছে, সেখানে গিয়ে কথা বলতে পারবেন।’
শেয়ার করুন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা আল মাহমুদের ‘খালেদা’ কবিতাটি জাতীয় সংসদে পাঠ করে শুনিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
কবিতাটি পাঠের আগে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অসাধারণ কবিতা, যা দেশনেত্রীকে নিয়ে সবচেয়ে ভালো কথাগুলো বলেছে।’
এরপর পুরো কবিতাটি তিনি পাঠ করে শোনান।
শেয়ার করুন

ছাত্র-জনতার জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের অন্তরে তিনি আছেন।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ তাঁর দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৫ বছরেরও বেশি সময় আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকর্মী, কর্মচারী, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও দলের নেতা হিসেবে তাঁর ছায়াতলে ছিলাম। তাঁর অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা রয়েছে, যার সঙ্গে পৃথিবীর আর কোনো ত্যাগের তুলনা করা যায় না।’
সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি গণতন্ত্রকে অবমুক্ত করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ‘দেশনেত্রী’ এবং ‘আপসহীন নেত্রী’ খেতাব পেয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে তাঁর হাত ধরেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরায় যাত্রা শুরু হয়। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু এবং দেশে নারী শিক্ষার অগ্রগতিতেও তাঁর বড় অবদান রয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া এক অপরাজিত নাম উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনীতিতে এমন রেকর্ড আর কারও নেই। তিনি যখন যেখানে, যত আসনে নির্বাচন করেছেন, সব কটিতেই জয়লাভ করেছেন। চারবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া এই নেত্রী ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবিরাম সংগ্রামের জন্য দেশের মানুষের কাছে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাইয়ের যে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, তার বিশাল এক অংশজুড়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব আমাদের অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছিল। এই অভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই আজকের এই জাতীয় সংসদের ভিত্তি নির্মাণ হয়েছে।’
খালেদা জিয়ার স্বপ্ন পূরণে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে যে সুদৃঢ় বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করতে চেয়েছিলেন, আমাদের সেই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।’
শেয়ার করুন

জুলাই শহীদদের স্মরণ করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘তাঁদের আত্মত্যাগ না হলে আমার মতো লোক ফাঁসির সেল থেকে সংসদে আসতে পারতাম না। আমরা কোনোদিন কল্পনাও করতে পারিনি। আজ আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থিত হতে পেরেছি। মিথ্যা মামলায় আমাকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছিল।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে আজহার বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক নারী। তিনি আপসহীন ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দেশের বাইরে তাঁর কোনো জায়গা নেই। জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি সেই সিদ্ধান্তে অটল ও অবিচল ছিলেন।’
সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর স্মরণে রংপুরের এই এমপি বলেন, ‘তিনি আমার ছাত্রজীবন থেকে পরিচিত ছিলেন। নিজামী অমায়িক ও যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন। মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আনা যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় আমাকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে মিথ্যার নাটক সাজিয়ে নিজামীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। সাঈদীকে হাসপাতালে ভর্তি করে ভুল চিকিৎসায় বা বিনা চিকিৎসায় হত্যা করা হয়েছে। আব্দুস সোবহানকে জেলখানায় অনেক কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’
সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকেও স্মরণ করেন জামায়াতের এই এমপি।
শেয়ার করুন

জীবিত খালেদা জিয়ার চেয়ে প্রয়াত খালেদা জিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শোকপ্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বিগত পতিত সরকারের সমালোচনা করে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘এই সংসদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো—যে স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আমরা ১৫ বছর লড়াই করেছি, তাদের পক্ষের কোনো মানুষ আজ এই সংসদে নেই।’
গণতন্ত্রকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সবার একটাই লক্ষ্য থাকবে গণতন্ত্রকে সামনে রাখা। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ এবং শহীদদের কথা স্মরণ করে সংসদ অধিবেশন শুরু করায় তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। আগামী দিনগুলোতে এই সম্মান বজায় রেখে সংসদে জনগণ ও মানুষের কথা বলতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শোকপ্রস্তাবের আলোচনায় তিনি বলেন, ‘তাঁর (খালেদা জিয়া) যে আত্মত্যাগ বিগত ১৭ বছরে আমি ব্যক্তিগতভাবে কাছ থেকে দেখেছি, তাঁর যে কষ্ট এবং দৃঢ়তা আমি দেখেছি, তাতে আমার কাছে মনে হয়, আজকে জাতীয়তাবাদী শক্তি যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, তাতে জীবিত খালেদা জিয়ার চেয়ে প্রয়াত দেশনেত্রী খালেদা জিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী।’
বেগম খালেদা জিয়ার এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে যেন আগামী দিনগুলোতে কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন (আন্ডারমাইন) করা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকারও আহ্বান জানান সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ।
শেয়ার করুন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি, বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ ও বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানী খাতুনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তারা শহীদ হয়েছেন।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এ নামগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শেয়ার করুন

জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনুরোধ করেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করলে তিনি এ নামগুলো অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করেন। এছাড়া ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করতেও তিনি অনুরোধ করেন।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরও মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর, আব্দুস সোবহান, কামারুজ্জামান, কাদের মোল্লা, মীর কাশেম আলীসহ আরও কয়েকটি নাম অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করেন।
উল্লেখ্য, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, কাদের মোল্লা, মীর কাশেম আলী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তাঁদের বিরুদ্ধে এ রায় কার্যকর হয়। এছাড়া একই অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কারান্তরীণ থাকা অবস্থায় সাঈদীর মৃত্যু হয়।
শেয়ার করুন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এই শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে এই শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী, সংসদের সাবেক উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা রোজী কবির, সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, দেশের প্রথম সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বীর উত্তম, সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা, সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) এম. আনোয়ারুল আজিম, মোস্তফা মোহসীন মন্টু, আব্দুল মান্নান তালুকদারসহ ৩১ জন এমপি ও ২৮ বিশিষ্ট ব্যক্তির স্মরণে এই শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তিনি কখনোই আপস করেননি। এমনকি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কোনো নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেননি। বরং তার দূরদর্শী ভূমিকার কারণেই দেশে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে।
খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করে শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেন জানিয়ে শোকপ্রস্তাবে বলা হয়েছে, তার দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে অন্যায়ভাবে বের করে দেওয়া হয়। বিএনপি অফিসের সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে বাধা সৃষ্টি করে তাকে অফিস থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। খালেদা জিয়া দেশের স্মরণীয়, অনুকরণীয় ও সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন।
মনমোহন সিংকে স্মরণ করে শোকপ্রস্তাবে বলা হয়েছে, তার মৃত্যুতে ভারত একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ, বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবককে হারিয়েছে। তার শোকপ্রস্তাবের অনুলিপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভাষান্তর করে তার পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।
খামেনির শোকপ্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী বাহিনীকে আধাসামরিক বাহিনী থেকে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। কঠোর নীতির কারণে খামেনির শাসন দেশের অভ্যন্তরে বিদ্রোহের সম্মুখীন হলেও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে তা মোকাবিলা করেন। তার মৃত্যুতে বিশ্ব একজন মহান নেতা, বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব ও ধর্মীয় নেতাকে হারিয়েছে।
মতিয়া চৌধুরীর শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থি রাজনীতির মাধ্যমে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচার ও আহতদের সেবায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি। ইডেন কলেজে অধ্যয়নের সময় ষাটের দশকে আইয়ুব সরকারবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর পর বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘অতীতে সংসদে মানুষের কল্যাণের জন্য আলোচনা না হয়ে চরিত্র হননের জন্য এখানে বিপুল সময় ব্যয় হয়েছে।’
তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ করব, এই সংসদ যেন কারও চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়। আপনি পারবেন ইনশাল্লাহ, সংসদকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে।’
এ সময় শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে অতীতে যে মন্দ নজির সৃষ্টি হয়েছে সেটির পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আমরা আশা করি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সংসদ ও সংসদীয় রাজনীতি সত্যিকার অর্থে খুব কম সময়ই কার্যকর ছিল। আপনি (স্পিকার) বিরল সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। এই জায়গায় অভিভাবকত্বের জায়গায় যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তারা মানুষের অধিকারের ওপর সুবিচার অনেকেই করতে পারেননি। আপনি বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এখন আপনি সকলের। আপনার কাছে সরকারি ও বিরোধীদল আলাদা কিছু হবে না বলে আশা করি।’
শেয়ার করুন

অধিবেশনের দুপুরের বিরতির পর শুরুতেই বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং শাণিত যুক্তিতর্কের মাধ্যমে জাতীয় সংসদকে প্রাণবন্ত করে তোলার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আজ থেকে আপনারা আর কোনো দলের নন। এই মহান সংসদের নির্বাচিত প্রত্যেক সদস্য আপনাদের চোখে সমান। আপনারা এই সংসদের অভিভাবক।’
বিগত পতিত সরকারের আমলের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে সব গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে জনগণকে দুর্বল জনগোষ্ঠীতে পরিণত করা হয়েছিল। মহান জাতীয় সংসদকে মানুষের অধিকার লুণ্ঠনকারীদের ক্লাবে পরিণত করা হয়েছিল। বিগত দেড় দশকে যাঁরা নিজেদের এমপি পরিচয় দিয়েছিলেন, তাঁদের কেউ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না।’
বর্তমান সংসদকে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংসদ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আজকের এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের সংসদ। আপনারা (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার) আজ এই মহান সংসদের অভিভাবকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দেশের স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতান্ত্রিক মানুষ আপনাদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে।’
দেশ ও জনগণের স্বার্থে এই সংসদকে অর্থবহ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং শাণিত যুক্তিতর্কের মাধ্যমে আমরা এই সংসদকে প্রাণবন্ত করে তুলতে চাই। এই ক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকা সর্বাধিক।’
জাতীয় সংসদ পরিচালনায় স্পিকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সংসদের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদ পরিচালনায় আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব, ইনশা আল্লাহ।’
শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভিভিআইপি গ্যালারিতে উপস্থিত আছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে স্পিকারের আসনের দুই পাশের ভিভিআইপি লাউঞ্জসহ চারপাশের দর্শক গ্যালারিগুলো আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে পূর্ণ ছিল। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সকাল ১০টা থেকেই অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করেন এবং একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
সংসদ সচিবালয় থেকে প্রথম অধিবেশনে বিশিষ্ট নাগরিক, বিদেশি কূটনীতিক ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। স্পিকারের ডান পাশের গ্যালারিতে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান, তাঁর মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু, তারেক-কন্যা জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী শামিলা রহমান সিঁথি। এছাড়া প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা এবং ডা. জোবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান বিন্দু দ্বিতীয় সারিতে আসন গ্রহণ করেন।
অধিবেশনে সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ টি এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।
বাম পাশের গ্যালারিতে বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার সারাহ কুক, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান হায়দারসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ গোলাম নাফিজকে রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া রিকশাচালক নুর মুহাম্মদকেও দর্শক গ্যালারিতে দেখা যায়।
শেয়ার করুন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন দুপুরের বিরতির পর দেড়টার দিকে আবার অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে শোক প্রস্তাব করা হয়।
শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বিরতির পর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হলে স্পিকারের আসনে বসেন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার জন্য সব সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
স্পিকার আসনে বসেই হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমাকে এই মহান সংসদের স্পিকার নির্বাচিত করার জন্য আমি প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
তবে বক্তব্যের শুরুতেই যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। স্পিকারের মূল মাইকটি কাজ না করায় তিনি একটি হ্যান্ডমাইকে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে না, আমাদের একটু অপেক্ষা করতে হবে। একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন।’
দীর্ঘদিন দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত করে স্পিকার বলেন, ‘১৭ বছর পর একটি কার্যকর সংসদ আমরা পেয়েছি। অনভ্যস্ত সংসদ গণতান্ত্রিক বক্তব্য শুনতে অভ্যস্ত নয়। সে জন্য একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। আশা করি শিগগিরই এ অবস্থার অবসান হবে।’
এ সময় যান্ত্রিক ত্রুটি ঠিক করতে দুই মিনিটের মতো সময় লাগবে বলে জানানো হয়। এরই মধ্যে জোহরের আজান শুরু হওয়ায় স্পিকার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আজান পড়েছে, ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশনের বিরতি দেওয়া হলো। ধন্যবাদ।’
শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিনই মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়ল। এদিন সংসদ অধিবেশনের বিরতির মধ্যেই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান। তাঁকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
শেয়ার করুন

জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কায়সার কামাল শপথ নিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশনে ৩০ মিনিটের বিরতি দেওয়া হয়। এই বিরতির সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলা-৩ আসনের এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য।
শেয়ার করুন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর আধাঘণ্টার জন্য বিরতি ঘোষণা করেন সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
শেয়ার করুন

জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচনের পর ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেন সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য আমি একটিমাত্র মনোনয়ন পত্র পেয়েছি। এই মনোনয়ন পত্রে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের জন্য নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবটি করেন নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। আর এই প্রস্তাবটি সমর্থন করেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফউদ্দিন নিজাম।
একইভাবে প্রস্তাবটি সংসদের সামনে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোটে দেন সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পরে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হলে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত হন।
শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
অধিবেশন শুরুর পর সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংসদের কার্যতালিকা অনুযায়ী প্রথমেই স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিনি জানান, স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য একটিমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন।
মনোনয়ন পাওয়া সংসদ সদস্য হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সভাপতি জানান, তিনি জানতে পেরেছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই দায়িত্বপালনে সম্মত আছেন।
পরে প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সংসদ সদস্য বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামকে আহ্বান জানান সভাপতি। পরে তিনি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাব সমর্থন জানান খুলনা ৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম।
পরে প্রস্তাব সংসদে ভোটে দেন সভাপতি। ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে নির্বাচিত হন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবে সমর্থন জানান বিএনপি মহাসচিবের মির্জা ফখরুল ইসলাম। এরপরেই অধিবেশন পরিচালনার জন্য স্পিকারের আসনের দিকে যান নবনির্বাচিত সভাপতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
পরে বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবে সমর্থন জানান সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, সাংবিধানিকভাবে কার্যবিধি অনুসারে আজকের এই মহান সংসদের সভাপতি করার জন্য যার নাম প্রস্তাব করেছেন তিনিও অত্যন্ত একজন সজ্জন, উনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি যে দলই করুন না কেন আমি মনে করি এ দেশের সব মানুষের তাঁর প্রতি আস্থা এবং শ্রদ্ধা আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবকে আমরা বিরোধীদলের পক্ষ থেকে পুনঃসমর্থন জানাচ্ছি।’
তবে সভাপতি নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা না করা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘তবে এটা আরও ভালো হতো, যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা তার প্রতিনিধি এই বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে একটু আলোচনা করতেন। আমরা অবশ্য তখনও এটাকে গ্রহণ করতাম অত্যন্ত আনন্দের চিত্তে।
নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি আগামীতে এই ধরনের যে সমস্ত বিষয় আসবে আলোচনা করা সম্ভব তো সরকারি দল বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করলে সমস্যা নেই, এতে পরিবেশটি আরও উন্নত হয়।’
একপর্যায়ে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের মজা করে বলেন, ‘নতুন সভাপতির বাড়ি কুমিল্লায়, আমার বাড়িও বোধহয় তার কাছাকাছি। সেজন্য একটা স্পেশাল এফিলিয়েশন ওনার সঙ্গে আছে। সব মিলিয়ে অত্যন্ত আনন্দচিত্তে সমর্থন পুনঃব্যক্ত করে শেষ করছি।’ তাঁর এই কথায় সংসদে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ সচিবালয়ে সচিব কানিজ মওলার সঞ্চালনায় শুরুতেই কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়।
এরপরেই সংসদ নেতা তারেক রহমানকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সংসদ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনের জন্য অনুরোধ জানান সঞ্চালক।

পরে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনে রূপ দিয়ে জাতীয় সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত করা হয়েছিল। দেশে তাবেদারি শাসন-শোষণ কায়েম করা হয়েছিল।’
বক্তব্যের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন।
শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে উপলক্ষ্য করে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সংসদ ভবনের প্রবেশপথে তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদেরও কয়েকজন যোগ দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশন শুরুর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
কর্মসূচিতে তাদের উত্থাপিত প্রধান তিনটি দাবি হলো: সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে গণভোট অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে; রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে হবে এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গিয়ে দেখা যায়, নিজেদের দাবি আদায়ে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং এনসিপির নেতা-কর্মীরা সংসদ ভবনের প্রবেশপথে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছেন। এই অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ আরও অনেকে।
শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে সংসদ ভবন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই জাতীয় সংসদের আসাদ গেট এলাকার ফটক, ১২ নম্বর ফটক (বকুল তলা গেট) এবং মনিপুরী পাড়া সংলগ্ন গেট দিয়ে সংসদ সদস্যরা এসে প্রবেশ করছেন।
ফটকগুলোসহ আশপাশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় বুধবার রাত ১২টা থেকে সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক ও অন্যান্য ক্ষতিকর দ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে সংসদের অধিবেশন উপলক্ষে সকাল ৮টা থেকে নির্দিষ্ট কিছু সড়কে যান চলাচলে ডাইভারশন কার্যকর করা হয়েছে, যা চলবে সকাল ১১টা পর্যন্ত।
শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি সংসদ ভবনে পৌঁছান। সকাল ১১টা থেকে অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, সংসদ ভবনে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে বসেছেন।

শেয়ার করুন
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। আর প্রথমবারের মতো বিরোধী আসনে বসতে যাচ্ছে তাদেরই সাবেক মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রথমে শপথ নেন সংসদ সদস্যরা। ওই দিন বিকালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠন হয় মন্ত্রিসভা।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তখনকার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিপরীতে বিএনপি-জামায়াতসহ চার দলীয় জোটের বিরোধী অবস্থানের কারণে সংসদ ছিল প্রাণবন্ত।
এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি জামায়াতের বর্জনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণে দশম সংসদ গঠন হয়। তবে জাতীয় পার্টি সরকারের মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করায় তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার অধীনে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।
সেই অধ্যায় কাটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলে থাকছে দীর্ঘ সময়ের জোটসঙ্গী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। এরইমধ্যে সরকারি ও বিরোধী দলের কিছু বিষয়ে পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থান নিতে দেখা গেছে। বিশেষ করে গণভোট, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার), প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। এর ফলে প্রথম দিন থেকেই সংসদে হট্টগোল তৈরির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জামায়াতের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দল এনসিপি, মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও আবদুল বাছিত আজাদের খেলাফত মজলিস।
শেয়ার করুন
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আইন প্রণয়ন শাখা থেকে দিনের কার্যসূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে প্রকাশ করা কার্যসূচিতে সাতটি ধাপের কাজের বণ্টন করা হয়েছে।
সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলার সই করা কার্যসূচিতে বলা হয়, প্রথম ধাপে ‘স্পিকার’ ও ‘ডেপুটি স্পিকার’ নির্বাচন; দ্বিতীয় ধাপে সভাপতিমণ্ডলি মনোনয়ন; তৃতীয় ধাপে শোক-প্রস্তাব; চতুর্থ ধাপে অধ্যাদেশ উপস্থাপন; পঞ্চম ধাপে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন’ সংসদের উপস্থাপন; ষষ্ঠ ধাপে সংসদীয় কমিটি গঠন এবং সবশেষ সপ্তম ধাপে রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুষ্ঠিত হবে।
শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বসছে। এ অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশের জন্য সংসদ ভবনের মনিপুরী পাড়া গেট (৬ নম্বর গেট), বকুলতলা গেট (১২ নম্বর গেট) ও আসাদগেট (১ নম্বর গেট) উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
যানজট এড়ানোর জন্য এবং নির্বিঘ্নে সংসদ ভবনে প্রবেশের জন্য অতিথিদের মনিপুরী পাড়া গেট এড়িয়ে (মনিপুরীপাড়া গেটে গাড়ির চাপ বেশি থাকবে) বকুলতলা গেট ও আসাদগেট দিয়ে জাতীয় সংসদে প্রবেশের জন্য অনুরোধ করেছে ডিএমপি।
বুধবার (১১ মার্চ) রাতে ডিএমপির উপকমিশনার মুহাম্মাদ তালেবুর রহমানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে দেওয়া গাড়ির স্টিকার (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, শাপলা, বকুল, শিউলি ও শিমুল) অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে (সংযুক্ত পার্কিং প্ল্যান মোতাবেক) গাড়ি পার্কিংয়ের অনুরোধ করেন।
উল্লেখ্য, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা এবং শাপলা স্টিকারযুক্ত গাড়ির পার্কিং সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে হবে এবং বকুল, শিমুল ও শিউলি স্টিকারযুক্ত গাড়ির পার্কিং পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে থাকবে।
এছাড়া, ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার যানবাহনসমূহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ মূল সড়কে সিঙ্গেল লাইনে পার্কিং করতে হবে।
আমন্ত্রিত সব অতিথি টানেল রোডে গাড়ি থেকে নেমে সংসদ ভবনে প্রবেশ করবেন। এক্ষেত্রে টানেল রোডে নামার সময় যথাসম্ভব কম সময় নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয় এবং চালক বা সঙ্গীয় ব্যক্তিদের গাড়ি থেকে না নামার জন্য অনুরোধ করে ডিএমপি।
সম্মানিত অতিথি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে (প্রবেশ গেট এবং পার্কিং স্থলে) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য অনুরোধ করা হয়।
শেয়ার করুন

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে কিছু নির্ধারিত কাজ হয়। এবার ‘স্পিকারের শূন্য আসন নিয়ে’ শুরু হওয়া প্রথম অধিবেশনের প্রথম কাজই হবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা।
সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, বিদায়ী সংসদের স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারের নতুন সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে রয়েছেন।
এবারের নির্বাচনের পর থেকেই অনেকের মধ্যেই এই কৌতূহল আছে যে আজ বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনের সূচনায় কে সভাপতিত্ব করবেন। ধারণা করা হচ্ছিল যে অধিবেশনের আগের দিন সরকারি দলের সংসদীয় দলের সভায় এটি চূড়ান্ত হতে পারে। কিন্তু ওই সভায় বলা হয়, নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার—এসব কিছুই চূড়ান্ত করার দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সংসদীয় দলের সভায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সংসদীয় দল সিদ্ধান্ত দিয়েছি, সংসদ নেতা স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার মনোনয়ন নির্ধারণ করবেন।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ দিন পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন এমপিরা শপথ নেন। সেদিন বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয় এবং বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।
নুরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, ‘আমাদের যেহেতু পুরনো স্পিকার নেই, ডেপুটি স্পিকার নেই। আমরা সংসদে একটি খালি চেয়ার দিয়ে শুরু করব। একজন কোরআন তেলাওয়াত করবেন। প্রধানমন্ত্রী, আমাদের সংসদ নেতা, তিনি ঘোষণা করবেন এই সভার সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে… প্রস্তাব করার পর কোনো একজন সমর্থন করবেন, তারপর তিনি সেখানে সভাপতিত্ব করবেন। সেই সভায় আমরা স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করব।’
শেয়ার করুন
অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যসূচি নির্ধারণে সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক হতে পারে। ওই বৈঠকে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা ঠিক করা হবে।
প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) অন্যতম প্রধান কাজ হবে সরকার যেসব অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে চায়, সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদকালে মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে।
শেয়ার করুন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) থেকে। আজ সকাল ১১টায় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যসূচি শুরু হবে। আজ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ আগে মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে তা নিয়ে আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।
এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম সংসদ অধিবেশন। সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আজকের অধিবেশনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে। নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন।
সংবিধান অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেন।
নির্বাচনের পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।
শেয়ার করুন