স্ট্রিম ডেস্ক

দক্ষিণ লেবাননের জুয়াইয়া শহরে ইসরায়েলি হামলায় সেখানকার পৌর মেয়র ফাওজি ফাওয়াজ ও কাউন্সিল সদস্য আব্বাস বালবেকি নিহত হয়েছেন।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী কয়েক দফা হামলা চালায়। মানুষের পাশে থাকতে গিয়ে ওই দুই নেতা নিহত হয়েছেন।
লেবাননের পত্রিকা ল’ওরিয়ঁ-লে জুরও জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার শুরুতে এই হামলা হয়।
শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, আজকের দিনটি হবে ইরানের ভেতরে আমাদের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র হামলার দিন। আজ সবচেয়ে বেশি যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান নিয়ে সবচেয়ে বেশি হামলার দিন।
পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে পিট হেগসেথ দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার সবচেয়ে কম ছিল।
এসময় তিনি আরও বলেন, ইরান এখন একা এবং তারা ব্যাপকভাবে পরাজিত হচ্ছে। অপারেশন এপিক ফিউরির দশম দিনে আমরা জয়ের পথে।
তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে ইরানে আরও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে হেগসেথ বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে ইরান যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে দেশটিকে ‘আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে’ আঘাত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি গতকাল ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে হওয়া ফোনালাপের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ওই আলোচনায় স্পষ্ট করা হয়েছে—ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে রাশিয়া যেন ‘না জড়ায়’।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
শেয়ার করুন
উপসাগরীয় দেশ কাতার জানিয়েছে, নিরাপত্তা হুমকি নিরসন হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার লাইভ আপডেটে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়েছে, কাতারি কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনে একটি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল দেশটিতে নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা ‘বৃদ্ধি পেয়েছে’।
পরবর্তীতে একটি ফলো-আপ বার্তা পাঠায় কর্তৃপক্ষ। তাতে বলা হয়—নিরাপত্তা হুমকি নিরসন হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
শেয়ার করুন
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলার পর ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। তবে প্রাণহানি হয়েছে ইরানেরই বেশি। এরপরের অবস্থানে আছে লেবানন। দেশটির ইরানপন্থি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়ায়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিজে থেকে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে না জানালে প্রকৃত তথ্য জানা বেশ কঠিন। বিশেষ করে অতীতে দেখা গেছে, ইসরায়েল যেকোনো সংঘাত চলাকালে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করে। যদিও সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এবার তথ্য প্রকাশে ইসরায়েল কড়াকড়ি বিধিনিষেধ নয়, তথ্য প্রবাহ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেখেছে দেশটি।
আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক খবরে ৯ মার্চ পর্যন্ত চলমান সংঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা জানানো হয়।
ইরান: ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যের বরাতে এতে বলা হয়, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় গতকাল সোমবার পর্যন্ত অন্তত ১,২৩০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধের প্রথম দিন মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন শিশু শিক্ষার্থী ও কর্মী নিহত হন।
এই সংখ্যায় দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) হতাহতরা অন্তর্ভুক্ত কিনা তা স্পষ্ট নয়। এছাড়া শ্রীলংকার উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিলে ১০৪ জন নিহত হন, যা রেড ক্রিসেন্টের হিসাবে নেই।
লেবানন: দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৪৮৬ জন নিহত হয়েছেন।
ইরাক: পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত। ৫ মার্চের একটি বিমান হামলায় ইরাকি ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের একজন কমান্ডারও নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল: অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ মার্চ বেইত শেমেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন নিহত হন।
এছাড়া হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর দক্ষিণ লেবাননে ২ সেনা নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র: দেশটির সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে ৭ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
সিরিয়া: ২৮ ফেব্রুয়ারি সুওয়াইদায় একটি ভবনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ৪ জন নিহত হন।
এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কুয়েতে ইরানের হামলায় ৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪ জন, সৌদি আরব ও বাহরাইনে ২ জন করে এবং একটি ট্যাংকারে হামলায় ওমানে ১ জন নিহত হয়েছেন।
শেয়ার করুন

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনিকে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা মনোনীত হওয়ায় ‘খুশি নন’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় (৯ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিমত জানান ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যমটিকে ট্রাম্প বলেন, তিনি (মুজতবা খামেনি) শান্তিতে থাকতে পারবে বলে মনে হয় না।
সাক্ষাৎকারে ইরানে চালানো ‘এপিক ফিউরি’ সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, এত তাড়াতাড়ি এই ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে তারা (ইরান) এমন দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে—যারা তাদের আক্রমণ করেনি।
নিজেদের অভিযানের সাফল্য সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, আমরা প্রথমে আঘাত করে ইরানের ৫০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিই। যদি তা না করতাম, লড়াইটা অনেক কঠিন হতো।
ট্রাম্প বলেন, অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের এটি করার সাহস ছিল না... আমি চাই না পাঁচ বা ১০ বছর পরে এমন কোনো প্রেসিডেন্ট আসুক যার সেই সাহস নেই।
শেয়ার করুন
যুক্তরাষ্ট্রের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির মধ্যাঞ্চলের শহর খোমেইনের একটি স্কুলে আঘাত হেনেছে। এতে হাফেজ খোমেইনি নামের স্কুল ও আশপাশের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর: মিডল ইস্ট টাইম
মেহের নিউজের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানায়, ঘটনাস্থলের হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে দক্ষিণাঞ্চলের শহর মিনাবে মেয়েদের একটি স্কুলে হামলায় অন্তত ১৬৫ শিশু প্রাণ হারায়। ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ।
পৃথক প্রতিবেদনে মেহের নিউজ জানিয়েছে, তেহরানে হামলায় ধসে যাওয়া একটি ভবন থেকে আজ ১ বছর বয়সী কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালাচ্ছেন। পরে সেখান থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, চলমান যুদ্ধে বেশ কয়েকটি বেসামরিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে বৃহৎ পরিসরে হামলা চালিয়েছে।
শেয়ার করুন

দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য একসময় বেশ কিছু অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেসব অস্ত্র সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর এই অস্ত্র সরিয়ে ফেলা কোনোভাবে ‘ঠেকাতে পারছেন না’ বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। এরইমধ্যে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, ‘সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনী আর্টিলারি ব্যাটারি এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশ থেকে সরানোয় বিতর্ক দেখা দিয়েছে।’
তিনি জানান, তাঁর সরকার এই পদক্ষেপের বিরোধ করেছে। তবে ওয়াশিংটনের ওপর দক্ষিণ কোরিয়া সরাসরি কোনো দাবি তোলার অবস্থায় নেই। দেশটির ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থার বরাতে আল জাজিরা এতথ্য জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘কিছু মার্কিন অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরক্ষা কৌশলকে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।’ উল্লেখ্য, এই প্রতিরক্ষা কৌশলই কোরিয়ার উপদ্বীপে বৃহৎ মার্কিন উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, ওসান বিমানঘাঁটি থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি পাঠানো হয়েছে। এগুলো সম্ভবত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পুনঃস্থাপন করা হবে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সূত্র এখন পর্যন্ত এই খবর নিশ্চিত করেনি।
শেয়ার করুন
হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিপ্লবী গার্ডসের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তবে দেশটিকে আগের চেয়ে অনেক গুণ শক্তিশালী হামলার মুখে পড়তে হবে।
চলমান যুদ্ধের কারণে ওই নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ইতিমধ্যে চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের ওপর এ যাবৎকালের চেয়ে ২০ গুণ বেশি কঠোর হামলা চালানো হবে।’
ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘আমরা এমন কিছু সহজে ধ্বংসযোগ্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানব, যা একটি রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব করে তুলবে। তাদের ওপর মৃত্যু, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে—তবে আমি আশা ও প্রার্থনা করি যেন এমনটা না ঘটে!’
শেয়ার করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ‘শিগগিরই’ শেষ হবে মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ট্রাম্প নন, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে চলা যুদ্ধের ‘সমাপ্তি নির্ধারণ’ করবে ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলে, ‘অঞ্চলের (মধ্যপ্রাচ্য) সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে; মার্কিন বাহিনী এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারবে না।’
শেয়ার করুন

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এ প্রণালি দিয়ে। ১০ দিন আগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান এখন পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়নি। এবার আইআরজিসি হুমকি দিল, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো তেলের ট্যাংকার এই পথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিতে তাঁরা হামলা চালাবে।
এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেছেন, তাঁর প্রশাসন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি নিজেদের দখলে নেওয়ার ‘চিন্তাভাবনা’ করছে। হরমুজ প্রণালিটি বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে, এবং সেখানে তারা ‘অনেক কিছুই’ করতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
অবশ্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের পর পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, এই যুদ্ধ ‘শিগগির’ শেষ হবে। এরপরই ইরানের হুমকির পর পাল্টা হরমুজ প্রণালি দখলের কথা জানালেন ট্রাম্প।
শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন সংকট নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন। দুই নেতার ফোনালাপ প্রায় এক ঘণ্টা চলে এবং ক্রেমলিন জানিয়েছে, এটি ‘সতর্ক ও গঠনমূলক’ আলোচনা ছিল। খবর বার্তাসংস্থা এপির।
রুশ সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ফোনালাপ মূলত ইরানের যুদ্ধ এবং ইউক্রেন সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে স্থায়ী সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রুশ কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় সংকটে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা পুতিন ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। পাশাপাশি, রাশিয়ান ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনার পাশাপাশি, রাশিয়ান, মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মধ্যেও সংলাপ হয়েছে। তবে, এখনও যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।
উশাকভ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতি বিষয়ক প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিল। ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপটি গুরুত্বপূর্ণ এবং গঠনমূলক ছিল।
ট্রাম্প এবং পুতিন গত বছরের আগস্টে আলাস্কায় একটি শীর্ষ সম্মেলনও করেছিলেন। এই ফোনালাপের মাধ্যমে দুই নেতা বৈশ্বিক উত্তেজনা কমানোর দিকে নতুন করে দৃষ্টিপাত করেছেন।
শেয়ার করুন

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ট্যাংকের গুলিতে এক মারোনাইট ক্যাথলিক পুরোহিত নিহত হয়েছেন। ক্যাথলিক সংবাদ সংস্থা ওএসভি নিউজ জানিয়েছে, নিহত পুরোহিতের নাম ফাদার পিয়ের আল-রাহি, যিনি পিয়ের এল-রাই নামেও পরিচিত ছিলেন। খবর আল জাজিরার।
লেবাননের মারজায়উন জেলার ক্লায়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি বাহিনী গ্রামটি খালি করার নির্দেশ দিলেও ফাদার পিয়ের আল-রাহি তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ইসরায়েলি ট্যাংকের গুলিতে তিনি নিহত হন।
ক্লায়া গ্রামটি ইসরায়েল সীমান্ত থেকে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত একটি খ্রিস্টান মারোনাইট অধ্যুষিত এলাকা। ইসরায়েলি হামলা শুরুর আগে সেখানে প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসবাস ছিল।
লেবাননের ক্যাথলিক প্যাট্রিয়ার্ক ও বিশপদের পরিষদের মহাসচিব ফাদার জাঁ ইউনেস জানান, ফাদার পিয়ের আল-রাহি তাঁর নিজ গ্রাম দিবেহর বাসিন্দা ছিলেন এবং ক্লায়া এলাকার প্যারিশ পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে তিনি মারা গেছেন। ঈশ্বর তাঁর আত্মাকে শান্তি দিন।’
শেয়ার করুন
>> মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যুদ্ধে তাঁদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। যুদ্ধ ‘শিগগিরই’ শেষ হতে পারে, যদিও এটি এই সপ্তাহে শেষ হবে না।
>> ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সমর্থনে দেশজুড়ে বড় বড় জনসমাগম হয়েছে।
>> যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে। পূর্ব তেহরানে একটি হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে এবং লোরেস্তান প্রদেশে তিন শিশু নিহত হয়েছে।
>> ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনার ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছে।
>> ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ পরস্পরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪৮৬ জন ছাড়িয়েছে। লেবাননজুড়ে প্রায় ৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
>> ইরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলো তেল উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
সূত্র: আল জাজিরা
শেয়ার করুন
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত হামলার জেরে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ ১১ দিনে গড়িয়েছে। টানা বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও পাল্টা আক্রমণে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সংঘাতের ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছে হাজারের বেশি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করে হামলা চালায়। হামলায় দেশটিরর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ৪৬ জন শীর্ষ নেতা মারা যান। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোমা হামলায় ১৬৫ জনের মৃত্যু ঘটে।
এই হামলার জবাবে ইরান শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা। ফলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংঘাত শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে লেবানন ও আশপাশের অঞ্চলেও। ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল সংরক্ষণাগারে হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ব তেল সরবরাহে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের ওই অঞ্চল থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
যুদ্ধের ১১তম দিনেও হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও এখনো যুদ্ধ থামার স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
শেয়ার করুন